আজ ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, ভোটারদের দাবী সুষ্ঠু নির্বাচন

সোলাইমান হোসাইন রুবেল নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ

 

ডিসেম্বরেই হতে পারে নেত্রকোণা পৌরসভার নির্বাচন। তাই মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু কর দিয়েছেন।

 

পিছিয়ে নেই কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরাও। আসন্ন ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি, ভোটারদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়ে নিজের পাল্লা শক্তিশালী করতে চালিয়ে যাচ্ছেন তোড়জোর।

চালিয়ে যাচ্ছেন এলাকাজুড়ে জনসংযোগ।

পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে পৌরবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চাচ্ছেন।

 

তাদের মাঝে অনেকেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের পর থেকে এলাকায় অসহায়দের মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী এবং হ্যান্ডস্যানিটাইজার, মাস্ক বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। আবার কেউবা হঠাৎ করেই জানান দিচ্ছেন প্রার্থীতার।

 

নেত্রকোণা পৌরসভাটি অনেক আগে থেকেই নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাভাবিকভাবেই প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীই সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন বলে অনুমেয়।

 

এবার নৌকাপ্রতীকে মেয়রপ্রার্থীদের মাঝে আলোচিতরা হলেন, নেত্রকোনা জেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌরসভার বর্তমান মেয়র নজরুল ইসলাম খান, জেলা আ’লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান খান রতন, জেলা আ’লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু, কেন্দ্রীয় উপদেষ্ঠা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট অসিত সরকার সজল, জেলা আ’লীগের সম্মানিত সদস্য দেওয়ান হাফিজ উদ্দিন অপল, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুদ খান জনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি জেলা পরিষদের সদস্য সৈয়দ বজলুর রশিদ। এছাড়াও একমাত্র মহিলা পার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অর্পিতা খানম সুুুমী।

 

বর্তমান মেয়র নজরুল ইসলাম খান করোণা পরিস্থিতিতে পৌরসভার মাঝে কীটনাশক ছিটানো ও করোণা সচেতনতায় কাজ করেছেন। পৌরসভার সৌন্দর্য্যবর্ধন ও রাস্তাঘাট এর উন্নয়ন কার্যক্রম অনেকটাই মনোনয়ন দৌড়ে তাকে এগিয়ে রাখবে বলে তার সমর্থকদের বিশ্বাস।

 

হাবিবুর রহমান খান রতন নেত্রকোণা জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত। দলীয় শ্রম-ঘাম মুল্যায়ন করে আওয়ামীলীগ তাকে মনোনয়ন দিবেন বলে তার অনুসারীরা মনে করেন।

 

নেত্রকোণা জেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকুর সরব উপস্থিতি ও জেলা রেডক্রিসেন্ট এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের পাশে থাকাটা মনোনয়ন দৌড়ে তাকে অনেকাংশেই এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস তার অনুসারীদের।

 

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রতিবাদ করে দীর্ঘদিন কারাবরণকারী অসিত সরকার সজল দলীয় মনোনয়ন পেলে নিজেকে পৌরসভার যোগ্য মেয়র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন বলে মনে করেন তার সমর্থকরা।

 

মাসুদ খান জনি ছিলেন সাবেক জাতীয়দলের ফুটবলার। নেত্রকোণা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনমানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন এমনকি তার স্ত্রী দুর্গাপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ও তার বড়ভাই সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় হওয়ায় পারিবারিক ভাবে রাজনীতিতে তিনি সিদ্ধহস্ত বলে মনে করেন তার অনুসারীরা যা তাকে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রাখবে বলে তাদের বিশ্বাস।

 

একমাত্র মহিলা প্রার্থী অর্পিতা খানম সুমী করোণাকালীন সময়ে জনসচেতনতায় কাজ করেছেন। তার পিতা জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাবেক পৌরচেয়ারম্যান মতিয়র রহমান খান এর “সজ্জন রাজনীতিবিদ” হিসেবে সুনাম রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে যদি দলীয় মনোনয়ন নেত্রকোণায় দেয়া হয় তাহলে একক প্রার্থী হিসেবে তিনি বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন বলে তার সমর্থকরা বিশ্বাস করেন।

বিরোধী দলে থাকায় অনেকাংশেই নেত্রকোণায় কোনঠাসা বিএনপি। তারপরও জনগণের সমর্থন ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জয়ী হতে পারবেন বলে আশাবাদী বিএনপির প্রার্থীরা।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস.এম মনিরুজ্জামান দুদু ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খানের বড়ছেলে জেলা যুবদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন খান রনি।

এস. এম মনিরুজ্জামান দুদু গত পৌর নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

অন্যদিকে যুবদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন খান রনি দলীয় ত্যাগ- তিতিক্ষা ও তার বাবার নেত্রকোণার গণমানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তাকে অনেকটাই এগিয়ে নিবে বলে আশাবাদী। কারন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান নেত্রকোণা জেলার রাজনীতিবিদদের মাঝে “জেন্টলম্যান” ও যথেষ্ট প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।

 

কোন দল কাকে মনোনয়ন দিবে সেটি যেমন বিবেচনায় আছে ভোটারদের ঠিক তেমনি যোগ্যব্যক্তিকে পৌরসভার মেয়র হিসেবে চান ভোটাররা। সুসম উন্নয়ন ও যোগ্যব্যক্তির সঠিক তদারকিতে নেত্রকোণা পৌরসভা হবে একটি মডেল পৌরসভা এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূল ও পৌরবাসী ও ভোটারদের।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap