আজ ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সাড়ে ৭ হাজার টাকায় নিতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

সোলাইমান হোসাইন রুবেল, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ

‘মুজিববর্ষে বাংলাদেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না’ এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর বছরে অর্থাৎ মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার স্বরূপ সারা দেশের ন্যায় নেত্রকোণায় এক হাজার ত্রিশটি গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারকে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার।

ভূমিহীন দরিদ্রদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকা ঘর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় নেত্রকোণা জেলায় ১০৩০টি ভূমি ও গৃহহীন দরিদ্র পরিবারের মাঝে খালিয়াজুরী উপজেলায় ৪৪৩ টি পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে এসব বাড়ি। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে প্রশাসন থেকে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও তাতে নানান অনিয়মের অভিযোগ করেছেন উপকারভোগী ও স্থানীয়রা।

এ প্রকল্পে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ভূমিহীন ব্যক্তিদের উপকারভোগী হিসেবে বাছাই করা হলেও এর মাঝে এমন কিছু ব্যক্তিদেরও নাম পাওয়া গেছে যারা এই ঘর পাওয়া যোগ্য নয়। উপজেলা ভূমি অফিস কাজ করে মাহিন ও তার ভাই আখির, উপজেলা অফিসের সুইপার পদে কাজ করে বিকাশ, উপজেলা চেয়ারম্যানের পিয়ন পদে আছে স্বপন মিয়া, উপজেলা চেয়ারম্যান এর পিয়ন মাহাবুব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গরু পালন করে দিল্লাল, প্রিতিষ পিআই ইউ অফিসে কাজ করে হাওরে তার ২ আরার মত জমি আছে, চায়না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় কাজ করে। তাদের নামেও ঘর রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানায়।

এছাড়াও উপজেলার মুজিব নগর ও মুমিন নগরে শেষ নেই এই ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও অভিযোগের। এই ঘর নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিন্ম মানের, ইট, বালু, সিমেন্ট এবং নগদ অর্থ নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যায় উপকারভোগী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে।

সরেজমিন গেলে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় পাকা বড়ি পাওয়া ভুক্তভোগীসহ সুবিধাবঞ্চিতরা তুলে ধরেন এসব অভিযোগের কথা।

মুমিন নগরের ভুক্তভোগী জাকির হোসেন, সেলিনা ও ইখলাস মিয়া জানান, আমরা তো আগে শুনেছি সরকার যাদের জমি নাই, ঘর নাই তাদের বিনা টাকায় ঘর দিচ্ছে। টাকা লাগে তা জানতাম না, এখন আমরা মানষের কাছে থেকে হাওলাদ দেনা করে টাকা এনে দিতে হচ্ছে এই ঘরের জন্য। তারা আমাদের কাছ থেকে জোর করে সাড়ে ৭ হাজার করে টাকা নিচ্ছে ঘরের মালামাল ইট, বালু সিমেন্ট এসব মালামাল আনার জন্য।

টাকা না দিলে ঘরের কাজ করবেনা বলে আমাদের ভয় দেখায় তারা। আর বলে নাকি ঘরও দিবেনা আমাদের। এই কথা শুনার পর আমরা সুদে দেনা করে টাকা দিচ্ছি তাদের। আবার প্রতিদিন রাজমিস্ত্রিদের কেউ ঋণ করে তিন বেলা খাওয়াতে হচ্ছে আমাদের। তাইলে এখন আপনারাই বলেন, সরকার কেনো বললো বিনা টাকায় ঘর দিচ্ছে। আর যদি বিনা টাকায় ঘর দেয় তাইলে এরা কেনো আমাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে।

ভুক্তভোগী শুক্কুর আলীর মেয়ে রত্না বলেন, পোলাপান নিয়া মানষের বাইত থাহি। কত কষ্ট করি। ট্যাহা নাই। ঘরের মালামাল আনার লাইগা নাহি ট্যাহা লাগবো। হের পরেও আমি সাড়ে ৩ হাজার ট্যাহা মানুষের কাছ থেইকা সুদে আইনা তাদের দিছি। ঘরের কাম একটু কইরা এহন বন্ধ রাখছে। এহন কয় বাকি ৪ হাজার ট্যাহা না দিলে কাজ করবো না। এই ট্যাহা কইনতে আইনা দেম। আবার ডেলি তিন বেলা মিস্ত্রিদেরও খাওয়ান লাগবো। এহন কইনতে আনবাম আমরা এই ট্যাহা।

সকল অনিয়ম আর অভিযোগের কথা অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইস এম আরিফুল ইসলাম বলেন, কোন অনিয়ম বা অভিযোগ হচ্ছে বলে একথা আমার জানা নেই। ভূমি ও গৃহহীন দরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রী উপহার হিসেবে যে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এইসব ঘর উপলক্ষে কারও কাছ থেকে এক টাকাও নেয়ার কোন সুযোগ নেই। তার পরেও কোন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবো।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap