আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কেশবপুর ও ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমাধানের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

কেশবপুর  যশোর প্রতিনিধি :
যশোরের কেশবপুর ও ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য, সংশোধিত প্রকল্পের মধ্যে বিল কপালিয়ায় টিআরএম যুক্ত করে দ্রুত টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন করা, কাসিমপুর ত্রিমোহনায় আপারভদ্রা নদীতে যথাসময় ক্রসড্যাম দেওয়া ও অপসারন করা, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অসমাপ্ত নদী খনন কাজ সমপন্ন করা, নদী থেকে দুরবর্তী স্লুইসগেট গুলো নদীমুখে স্থাপন করা, এবং নদীতে কাফ ও বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে প্রশস্ত ব্রীজ নির্মান করাসহ ৬ দফা দাবীতে কেন্দ্রীয় পনি কমিটির পক্ষ থেকে শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খানের সভাপতিত্বে প্রেসক্লাবের হলরুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে, কেন্দ্রীয় পনি কমিটির সভাপতি এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৩০/৩৫ বছর যাবত ভবদহ ও কেশবপুর অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সমস্যাটি অব্যহত থাকার ফলে অত্র এলাকা ২৪ নং পোল্ডারভুক্ত যার আয়তন প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর এবং লোক সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষ।
যশোর জেলার যশোর সদর, মনিরামপুর, অভয়নগর, ও কেশবপুর এবং সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ৪৯৫টি গ্রাম ২৪ নং পোল্ডারের আওতাভুক্ত।
এই এলাকাটি ভবদহ তৎসংলগ্ন এলাকা হিসাবে পানি উন্নয়ন রোর্ডের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এই এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হরিনদী টেকা-মুক্তেশ্বরী আপারভদ্রা, হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদী পলি ভরাট হয়ে পানি নিস্কাশনের অনুপোযগী হয়ে পড়েছে।
যার ফলে বর্ষাকালে ফসল ক্ষেত জনপদ জনবসতী এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভবদহের হরি অববাহিকায় ভায়না, কেদারিয়া, বিল খুকশিয়ায় টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এই এলাকা দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর যাবত জলাবদ্ধমুক্ত ছিল।
২০১৩ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রকল্প বন্ধ থাকায় আবারও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যা সম্প্রতি তেলীগাতি-ঘ্যাংরাইল অববাহিকার বার আড়িয়া মোহনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষের গণদাবীর প্রেক্ষিতে সরকার আবারও টিআরএম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
এবং পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের আইডব্লিউএম কর্তৃক (দ্বিতীয় পর্যায়)ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা দুরীকরণ প্রকল্প প্রনয়ন করেন।
কিন্তু ভবদহ ও সাতক্ষীরার জন্য প্রণীত মহাপরিকল্পনা ২০১৩,২০১৮ সালে অনুমোদিত বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ ও আইডব্লিউএম এর সুপারিশ উপেক্ষা করে ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের যাচাই বাচাই কমিটির সভায় বিল কপালিয়া টিআরএম বাস্তবায়ন বিষয়টি বাদ দিয়ে সংশোধিত প্রকল্প গ্রহন করার ফলে নদীর নাব্যতা রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ১৯৯৮ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সিইজিআইএস এক সমীক্ষায় বুড়িভদ্রা, আপারভদ্রা ও হরিহর অববাহিকায় জলাবদ্ধতা সমাধানে বুড়ু–লি ও পাথরা বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের সুপারিশ করে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড তা উপেক্ষা করে কাসিমপুর ত্রিমোহনায় প্রতি বছর ক্রসড্যাম দিয়ে আসলেও পলি ভরাট বন্ধ করা যাইনি। ২০১৫/১৬ সালে পর পর ২বার ক্রসড্যাম না দেয়ায় কেশবপুর অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়বহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এছাড়া ২০২০ সালের জুনের মধ্যে আপারভদ্রা খনন শেষ না হওয়া ও নদীর বুকে অপরিকল্পিত ভাবে ব্রীজ সাঁকো নির্মানের ফলে স্রোত বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
এসব সমস্য সমাধানে পানি কমিটি ৬ দফা দাবীতে এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের সময় উপস্থিত ছিলেন পানি কমিটির সদস্য ও হাসেম আলী ফকির, দিলিপ কুমার সানা ও উত্তোরনের সুপার ভাইজার নজরুল ইসলাম খাঁন প্রমুখ।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap