আজ ৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পোশাক শ্রমিকের কাজের আড়ালে অপহরণ ও ছিনতাই তাদের কাজ, র‍্যাব-৪

বিশেষ প্রতিনিধি, সাভার (ঢাকা)

আশুলিয়ার একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে প্রধান হত্যাকারী সহ একটি অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব।
এই চক্রটি পোশাক শ্রমিকের কাজের আড়ালে অপহরণ ও ছিনতাই করতো বলে জানায় র‍্যাব-৪।

রোববার ২৯ জানুয়ারি দুপুরে র‌্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার আটকের বিষয়টি ও এই চক্রের কর্মকান্ড সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তুলে ধরেন।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি সকালে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসুতি গ্রামের কেন্দ্রীয় গণ কবরস্থানে বিবস্ত্র অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে মৃতের নাম পরিচয় জানা গেলেও অজ্ঞাত থেকে যায় মৃত্যুর কারণ। উদ্ধারকৃত মৃতের নাম আরিফ হোসেন (১৯) সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুর থানার বাজরা গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে। সে কালিয়াকৈরের বিশ্বাসপাড়া এলাকায় একটি পোশাক রং তৈরির কারখানায় চাকুরি করতো।

এঘটনায় মৃতের বড় ভাই অজ্ঞাতনামা আসামী করে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে, র‍্যাব-৪ আরিফ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনতে তৎক্ষণাৎ ছায়া তদন্ত শুরু করে।

গত ২৮ জানুয়ারি রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ক্লুলেস আরিফ হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত মূলহোতা সেন্টু সরদার (৩৫) রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার শ্রীপতিয়াপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাকে আটক করে। ইতোপূর্বে সে ২০২০ সালের অপহরণ, চুরি ও ছিনতাই এর মামলায় ০১ বছর ০১ মাস সাজাভোগ করেছে বলে জানায় র‍্যাব।

অভিযানে আটক অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের অপর সদস্যরা মোঃ জমির উদ্দিন (৩৩), দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ থানাধীন মোহাম্মদ পুর ইউনিয়নের নৌপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। রাব্বি আহম্মেদ (২৪) সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা থানাধীন ধর্মপাশা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। মোঃ জহিরুল ইসলাম (৩৫) টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানাধীন কামদেববাড়ী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তারা সবাই দীর্ঘদিন ধরে সাভার আশুলিয়া গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে আত্মগোপন করে অপহরণ ও চাঁদাবাজি করে আসছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান বলেন, আসামী সেন্টু সরদার এর সাথে গাজীপুরের একটি গামের্ন্টসে চাকুরীর সুবাদে মৃত আরিফ (১৯) এর পরিচয়। এক পর্যায়ে আরিফ গামের্ন্টস এ চাকুরী পাওয়ার জন্য সেন্টুর সাথে যোগাযোগ করলে, সেন্টু সরদার (ভুয়া জিএম) জমির উদ্দিন এর মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলে। আরিফ জমির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে, ২১ জানুয়ারি আসামীরা পরিকল্পিতভাবে ও সুকৌশলে আরিফ (১৯) কে, আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসুতি গ্রামের কেন্দ্রীয় গণকবরে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়, এবং মোটা অংকের টাকা দাবী করে। আরিফ টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামীরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এসময় তার মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশটি কবরস্থানের নির্জন এলাকায় ফেলে, আত্মগোপন করে আসামিরা।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান আরো জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা এই ঘটনার সাথে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তারা সংঘবন্ধভাবে দীর্ঘ ০৪ বছর যাবৎ নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও গাবতলী-পাটুরিয়া মহাসড়কসহ সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই এর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে সুকৌশলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নির্জন স্থানে আটকে রেখে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবী করতো। একই সাথে তারা অপহরণ, ও ছিনতাই করতো। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও ছিনতাই এর একাধিক মামলা রয়েছে। তারা বিগত তিন-চার বছরে ৬০ টির অধিক প্রতারণা এবং চাঁদাবাজির কাজ করে আনুমানিক ২৫-৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap