আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায়; শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি (ঢাকা) সাভার:
ঢাকার আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক কে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানব বন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এতে চিত্রশাইল এলাকার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজ এবং এর আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান আসামী বখাটে আশরাফুল ইসলাম জিতুকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারপূর্বক ৬দফা দাবী তুলেন। দাবী আদায়ে এরই মধ্যে আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৬দফা দাবী হলো- মামলার প্রধান আসামীকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে, অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেফতার, প্রধান আসামীর পলাতক পরিবারের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে হবে, নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানীয় ও বাইরের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার ভেদাভেদ দূর করতে আইন প্রণয়ন এবং কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
শনিবার শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
নিহত শিক্ষক উৎপল কুমার সরকার ঢাকার আশুলিয়ার চিত্রশাইলে হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। এর পাশাপাশি তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতিও ছিলেন।
হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, ‘উৎপল স্যার শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ইভটিজিং এর বিষয়ে শাসন করতেন। কয়েকদিন আগে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জন্য ওই ছাত্রকে শাসন করেন উৎপল স্যার। সেই ক্ষোভ থেকে প্রকাশ্যে স্যারের ওপর হামলা চালিয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বখাটে ওই ছাত্র আশরাফুল ইসলাম জিতুকে গ্রেফতার করা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে বলেও শিক্ষার্থীরা হুশিয়ারী দেয়।
হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান জানান, সেদিন আমাদের স্কুলে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। দুপুরে মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিল উৎপল। হঠাৎ কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই উৎপলকে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে জিতু। স্ট্যাম্পের আঘাতে শিক্ষকের মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং পরে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউতে) ভর্তি করা হয়।
সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরেরদিন সোমবার ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। উৎপল কুমারের মরদেহ ময়ণা তদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়ণা তদন্ত শেষ হলে মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে নিয়ে যাবে পরিবার। সেখানেই শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap