আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

হিজাব পড়ায় কারখানা থেকে বের করে দেয়া হয় নারী শ্রমিকদের

হিজাব পড়ার অপরাধে কর্মস্থলে ঢুকতে দেয়া হয়নি নারী শ্রমিকদে

আসাদুজ্জামান খাইরুল-সাভার (ঢাকা)

আশুলিয়ায় হিজাব পড়ার অপরাধে শ্রমিক ছাঁটাই সহ, অর্ধশত পোশাক শ্রমিকদের একটি গার্মেন্টসে প্রবেশ করতে দেয়নি ওই কারখানা কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে আশুলিয়ার গাজিরচট এলাকায় অবস্থিত ‘ইয়াংজিন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড’ কারখানায় এমন ঘটনা ঘটে। বিগত এক মাসে ছাঁটাই করা হয়েছে অনেক শ্রমিকদের। আটকে দেওয়া হয়েছে অনেকের বেতন।

পরে সকাল থেকেই বের করে দেয়া প্রায় ৬০ জন বোরকা ও হিজাব পরিহিত শ্রমিক, কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে এর প্রতিবাদ করেন।

শ্রমিকরা জানায়, গত দের মাস থেকে আমাদের সাথে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঝামেলা করছে। গত দের মাসে হিজাব পড়া নিয়ে অনেক শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। আর যারা হিজাব বা বোরকা পড়ে কাজ করে তাদের বেতনও কর্তন করে রেখেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আজ বোরকা ও হিজাব পরিহিত শ্রমিকরা সকালে কারখানায় প্রবেশ করতে গেলে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ পরে শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়েছে।

দুই বছর যাবৎ এই কারখানায় কাজ করে পারুল নামের এক শ্রমিক। তিনি বলেন, হটাৎ দের মাস ধরে হিজাব ও বোরকা পড়া নিয়ে ঝামেলা করছে স্যাররা৷ আমি প্রতি মাসে বেতন পাইতাম ১২/১৪ হাজার টাকা গত মাসে আমাকে বেতন দেয় ৭ হাজার টাকা। আমরা কর্ম সময়ের চেয়েও বেশি কাজ করি। শুধু তাই নয় ঈদ বোনাস যেখানে পাবার কথা বেতনের অর্ধেক, সেখানে খুবই অল্প টাকা দেয়। আজ কারখানায় ঢুকতে গেছি যারা বোরকা বা হিজাব পড়ে আছি সবাইকে বাইরে দাড়া করে রাখছে ঢুকতে দেয়নি। স্যাররা বলে যদি বোরকা খুলতে পারো তাহলে ভেতরে আসো। এরআগে কারখানার স্টাফ সুপারভাইজার ফেরদৌস ভাইকে দিয়ে আমাদেরকে চাপ দিয়ে বোরকা খুলানোর চেষ্টা করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ফেরদৌস ভাই তা করেনি দেখে তাকেও আমাদের সাথে বের করে দিছে কারখানা থেকে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বেতন পাই অল্প বাড়িতে বাবা-মাকে দিতে হয়, এখানে বাসাভাড়া দিতে হয়, নিজের খাবার খরচ চালাতে হয়৷ এতো অল্প টাকায় কি ঢাকায় কাজ করে চলা যায়? আর এই চাকরিটা যদি চলে যায় ঈদের সামনে আমি কি করবো। কোথায় গিয়ে চাকরি নিবো।

বিষয়টি নিয়ে কারখানার সুপারভাইজার মোঃ ফেরদৌস হোসেন তালুকদার বলেন, আমি তিন বছর যাবৎ এই কারখানার কাজ করি। প্রায় দের মাস হলো হিজাব না পড়ার এই কার্যক্রম কারখানার ভেতরে চলছে৷ কারখানা কর্তৃপক্ষ আমাকে প্রথমে বলছে আমার আন্ডারে যে শ্রমিকরা রয়েছে সবাইকে হিজাব খুলে ফেলানোর জন্য। পরে আমি না কারলে ২০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৭০ জন শ্রমিক মাথাপিছু ২০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলে কারখানা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আমি একজন মুসলিম হিসেবে এটা করতে পারিনি। তাই কারখানায় আজ শ্রমিকদের সাথে আমাকেও ঢুকতে দেয়নি৷ শুধু তাই নয় হিজাব পরিহিত শ্রমিকদের গত মাসের বেতন কম দিয়েছে।

হিজাবের বিষয়টি অস্বীকার করে কারখানাটির এইচ আর এডমিন (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) ইমরান হাসেম বলেন, আসলে বোরকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। তবে আমাদের উপর থেকে নির্দেশ ছিলো হিজাব খুলে যেনো শ্রমিকরা মাস্ক পরা। এটি শ্রমিকদের জানালে তারা হিজাব খুলবে না বলে জানিয়ে দেয়৷ পরে আমরা আর কিছু বলিনি। আজকের সমস্যা হলো বেতন-বোনাস। শ্রমিকরা কাজের রেট বাড়িয়ে চায়। আমরা পুলিশ ও শ্রমিকদের নিয়ে বসেছি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যপারে স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আল কামরান বলেন, বিষয়টি ন্যক্কারজনক। ঘটনাটি শোনার পরপরই কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা কথা বলার চেষ্টা করি। কারখানা কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের অনেক ক্ষতি হয়। এই কারখানায় প্রায় ১২শ শ্রমিক। বাকি শ্রমিকদের ভেতর যারা হিজাব পরতো তাদের সুপারভাইজার দিয়ে চাপ হিজাব খুলিয়েছে। একজন সুপারভাইজার এটা না করায় তাকেও আজ বের করে দেওয়া হয়েছে৷ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap