আজ ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবুর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

সোহেল রানা, পাবনা প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগের নারী কর্মির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট ও শেয়ার করার অভিযোগে পাবনার বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো: রেজাউল হক বাবুসহ ২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পাবনাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনাল কোর্টে মামলাটি দায়ের করেন পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের হরিনাথপুর গ্রামের শংকর কুমার শীলের স্ত্রী সীমা রানী শীল। মামলা নং ৩০পি/২১, তাং ২৬/০৯/২০২১ ইং। বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার বিশ্বনাথপুর গ্রামের তোফাজ মোল্লার ছেলে মোল্লা আরমান ও নয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জহুরুল ইসলাম মিয়ার ছেলে রেজাউল হক বাবু। তিনি বেড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জাতসাকিনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, মামলার প্রথম আসামী মোল্লা আরমানের ফেসবুক আইডি দিয়ে ১৯/০৯/২০২১ তারিখে ধারণ পূর্বক দ্বিতীয় আসামী রেজাউল হক বাবু প্রদানকৃত বক্তব্য সরাসরি প্রচার করেছেন। দুই নম্বর আসামী ওই বক্তব্য ২০/০৯/২০২১ তারিখে নিজ আইডি থেকে শেয়ার করেছেন।

মামলার বাদী উল্লেখ করেছেন, প্রথম আসামী ফেসবুকে ধারণকৃত ও প্রচারকৃত বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা, মানহানিকর, উদ্দেশ্য প্রণোদিত, আক্রমনাত্মক, ভীতি প্রদর্শনমূলক ও সাম্প্রদায়িত শান্তিশৃংখলা বিনষ্ট করেছে। তিনি দাবী করেন, তার স্বামীর নাম জড়িয়ে প্রচার করেছে ‘সংকরের স্ত্রী অর্থাৎ বাদী জনৈক ব্যক্তির সাথে রাত্রিযাপন করেছেন’। এই অসত্য, কাল্পনিক, মিথ্যা, অপমানকর, মানহানিকর, স্বামী, সংসার, পরিবার ও সমাজ এবং সম্প্রদায়ের নিকট মারাত্মক ভাবে বিরক্তিকর। এগুলোর কোন যাচাই বাছাই না করেই মামলার দ্বিতীয় আসামী তার আইডি থেকে শেয়ার দিয়েছেন। সুবিচারের আশায় তিনি অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই মামলা দায়ের করেছেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিযুক্ত বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু বলেন আমি জেনেছি কিন্তু মামলার কোন কপি হাতে পাইনি, পেলে বলতে পারব । মামলার বিষয়ে জানতে পিবিআই পাবনা অফিসে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সীমা রানী শীল আলোকিত পাবনা কে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে ও মনগড়া কাল্পনিক কাহিনী সাজিয়ে পরিকল্পিত ভাবে সরাসরি এবং ধারণকৃত বক্তব্য শেয়ার করে সামাজিক ও মানসিক ভাবে অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করেছে অভিযুক্তরা। আমি ন্যায় বিচারের আশায় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছি। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছি।

সীমা রানী শীল আক্ষেপ করে আরো বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছিলেন,যার ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার কন্যা মানবতার জননী সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে জাতির পিতার স্বপ্ন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেই মুহূর্তে একজন সংস্কারবাদী দলে প্রবেশ করে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে ও ইজ্জত ভূলন্ঠিত করছে আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি হয়ে (বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু) এই কুখ্যাত ১/১১ সংস্কার বাদী অধ্যাপক আবু সাঈ ‘র বরপুত্র গংদের হোতার বিচারের ভার জাতির পিতার রক্ত আদর্শের উত্তরসূরী অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারক-বাহক গনতন্ত্রের মানস কন্যা বাংলা-বাঙ্গালী আশা-ভরসার শেষ ঠিকানা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে । আমি আপনার কন্যা ও আপনি আমার মা । জাতির পিতা নিয়েছিলেন দুই লক্ষ ৭০ হাজার মা-বোনদের । যারা পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের কর্তৃক লুন্ঠিত ও সম্ভ্রম হানী হয়েছিল । জাতির পিতা তাদের যেমনি পিতৃ স্নেহে লালন -পালনে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নিজ কাঁধে । আর আমি বিনা পাপে আপনার কাছে পুত ও পবিত্র হয়েও কুলঙ্গার বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবুর কাছে সম্ভ্রম হারিয়েছি । যেজন্য আপনার কাছে স্মরণাপন্ন । আজ আমি সংসার পরিবার গোত্র সকলের কাছে “ কুলটা” । এই বিচারের যথাযোগ্য সুবিচার ও লক্ষ-কোটি আশু নির্দেশনা কামনা করছি।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap