আজ ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কাজিরহাট-আরিচা রুটে পারাপারের অপেক্ষায় ৩ শতাধিক ট্রাক

সোহেল রানা, পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনার কাজিরহাট-আরিচা রুটের চারটি ফেরির মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবার দুটি বন্ধ রয়েছে। বাকি দুটি ফেরি দিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন পারাপার চলছে। এতে দুই পাড়ে আটকা পড়েছে প্রায় তিন শতাধিক যানবাহন।

সোমবার (০৪ অক্টোবর) সকালে কাজিরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোববার দুপুর থেকে ডাম্প ফেরি কপোতি ও কলমিলতা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। রো রো ফেরি বেগম সুফিয়া কামাল ও রোকেয়া দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে রো রো ফেরি বেগম রোকেয়া ও ডাম্প ফেরি কপোতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক সপ্তাহের মতো বন্ধ ছিল। পরে মেরামত করে ঘাট সচল করা হয়। চারটি ফেরি দিয়ে রোববার দুপুর পর্যন্ত যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ি পারাপার করা হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পুনরায় দুটি ফেরি নষ্ট হয়ে গেল। উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষের দুর্ভোগ লাগবে এই নৌপথে ফেরি চালু করা হয়। কিন্তু বর্তমান অবস্থার জন্য ঘাটের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন যাত্রী, চালক ও শ্রমিকরা। কর্তৃপক্ষ দুটি ফেরি দিয়ে ঘাট সচল রাখার দাবি করলেও কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে কাজিরহাট-আরিচা নৌপথ। সপ্তাহ না যেতেই ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে কাজিরহাট ফেরিঘাটে দেখা গেছে, ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন যানবাহনের চালকরা। দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ট্রাক টার্মিনাল, আবাসিক হোটেল, পাবলিক টয়লেট, যাত্রী ছাউনি ও লাইটিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় ট্রাকচালকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিরাপত্তার জন্য একটি নৌফাঁড়ি স্থাপন করার দাবি জানান পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীরা।কাজিরহাট ঘাটে কথা হয় বুড়িমাড়ী স্থলবন্দর থেকে আসা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, তিন দিন ধরে ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছি। সিরিয়াল পাওয়া তো দূরের কথা। আরও দুই দিন ঘাটে অবস্থান করা লাগতে পারে। একটি ফেরিতে ৪-৫টি করে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এত ছোট ফেরি দিয়ে বড় একটি রুটের যানবাহন পারাপার করা সম্ভব নয়।চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা আব্দুল করিম বলেন, ঘাটে দুদিন ধরে আটকা আছি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘাট কর্তৃপক্ষ পণ্য পরিবহনগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। একটি ফেরিতে মাত্র চার-পাঁচটি পণ্যবাহী ট্রাক তোলায় এমন ঝটলার সৃষ্টি হচ্ছে। ফেরি কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার শেষ নেই। এ কারণে ট্রাকচালকরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।লালমনিরহাট থেকে এসেছেন সালমান রহমান নামে এক চালক। তিনি বলেন, দিনের পর দিন এখানে অবস্থান করলেও ঠিকমতো ফেরির দেখা পাইনি। এখানে আবাসিক হোটেল, বাথরুম, টার্মিনাল নেই। নিরাপত্তার জন্য একটি লাইটও লাগানো নেই। সব সময় চুরি-ডাকাতির ভয় থাকে। ডাকাতির ভয়ে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।কাজিরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিকল ফেরি দুটি মেরামতের জন্য আরিচাঘাটে পাঠানো হয়েছে। মেরামত শেষে যানবাহন পারাপারে যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই বিড়ম্বনা কাটানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ঘাটের নিয়ম অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকার ও জরুরি সেবার পরিবহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হয়। রোববার বিকেল পর্যন্ত দুই পাড়ে তিন শতাধিক যানবাহন ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষায় ছিল। বারবার ফেরি নষ্ট হওয়াতে আমরা বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছি।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap