আজ ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ইছামতি নদীর

পাবনার ইছামতি নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও নদীটিকে খনন করে বহমান করার দাবিতে বা’পা পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে বিশাল মানববন্ধন

সোহেল রানা, পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনার ইছামতি নদী নিয়ে আবার শুরু হলো আন্দোলন। পাবনার একসময়ের ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও খনন করে নদীটিকে রহমান করার দাবিতে আজ ১৯ ই সেপ্টেম্বর রবিবার বেলা ১১টার সময় পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন পাবনা জেলা শাখার আয়োজনে এ বিশাল মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের পাবনা জেলা শাখার সভাপতি পাবনার এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক ভিপি-জিএস, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক এ্যাড. তোসলিম হাসান সুমন।

স্বাগত বক্তব্য দেন বা’পা পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, বিলুপ্তপ্রায় ইছামতি নদী উদ্ধারে দুই দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে উচ্চকণ্ঠ, বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট আব্দুল হামিদ খান। পাবনা সিটি কলেজের অধ্যাপক, বাপা পাবনা জেলা শাখার নেত্রী শামসুন্নাহার বর্ণার পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর আলম তৌফিক, ইমাম গায্যালী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সুরাইয়া সুলতানা, টেবুনিয়া শামসুল হুদা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যাক্ষ নজরুল ইসলাম বাবু, পাবনা সেলিম নাজির উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার রোজী, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, বাজিতপুর শ্রমজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী দোহা, টেবুনিয়া শামসুল হুদা ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক লিমন আমীর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, কৃষিবিদ মোঃ নাজিম উদ্দীন, টেবুনিয়া হাজেরা খাতুন গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক বুরহানুল ইসলাম, কবি জোহরা আক্তার ইরা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা নুরুন্নবী নিবিড়, মালিগাছা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্ববায়ক শাহরিদ হাসান ওহী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক হায়দার খান ও চাটমোহরের জাকির হোসেন।

স্বাগত বক্তব্যে ইছামতি নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামরত বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল হামিদ খান বলেন, ইছামতি নিয়ে আমরা দুই দশক ধরে আন্দোলন করে আসছি। এ আন্দোলনের ফলে গত ৩০ মার্চ অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ শুরু হয়। কিন্তু কোন অশুভ ইঙ্গিতে মাত্র তিন দিনের মাথায় ১ এপ্রিল সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, যে ইছামতি নদী একসময় পাবনার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতো আজ সেই ইছামতি নদী পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে ইছামতির ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ বাতাসে বিষ ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, পাবনার কিছু ভূমি দস্যু, অতি লোভী মানুষ ইছামতি নদীর দুই পাড় দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করে নদীটিকে গলা টিপে হত্যা করেছে। দখল-দূষণে এক সময়ের পাবনার ঐতিহ্য ইছামতি নদীটি আজ বিলুপ্তপ্রায়।

এরপরও একটি স্বার্থান্বেষী মহল উপরওয়ালাদের সাথে যোগাসাজশে ইছামতি নদীর ওপর অনেকগুলো ফুট ওভারব্রীজ সরকারি দফতর থেকে তৈরি করেছে। যারা এই ফুট ওভারব্রীজ তৈরির সাথে জড়িত, তারা পাবনার মানচিত্র থেকে ইছামতি নদীকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেন।

অনতিবিলম্বে ইছামতির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও খননকাজ শুরু করার জোর দাবি জানান পরিবেশ আন্দোলনের এই নেতা। সভাপতির বক্তব্যে এ্যাড. তোসলিম হাসান সুমন স্মৃতিচারণ করে বলেন, যে ইছামতি নদীতে আমাদের শৈশব কেটেছে সাঁতার কেটে, ব্রীজের উপর থেকে লাফ দিয়ে স্রোতের সাথে দূরে গিয়ে আবার ভেসে ওঠা- এসবই এখন দূর অতীত স্মৃতি। কোথায় পাব এই অনাবিল আনন্দ! তিনি প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, দ্রুততার সাথে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে আবার ইছামতি নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হবে। ইছামতি নদীতে আবার আমরা নৌকায় ভাসতে চাই। ইছামিত নদীই হবে পাবনার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap