আজ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৭শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ডাকাতিতে জড়িত সাবেক র‍্যাব সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ফজলুল হক, কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধি:

 

ঈদের দিন রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সূত্রাপুর এলাকার আব্দুল মোমেন কোম্পানি লিঃ নামক সাইট অফিসে দুর্ষর্ধ ডাকাতি সংঘটিত হয়। এঘটনায় আব্দুল মোমেন কোম্পানির লিঃ পক্ষে একটি মামলা দায়ের করলে কালিয়াকৈর থানা পুলিশের এসআই ভজন চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রোববার ভোরে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার আনারপুর গ্রামের সাবেক র‍্যাব সদস্য খোকন মিয়াকে (৫০) পুলিশ আটক করেন।

পরে তার বাড়ির একটি কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যাটারী,তামার তার, গাড়ীর যন্ত্রাংশ ও মোটর পাম্প উদ্ধার করেন। তার দেওয়া তথ্যে আর সহযোগি শাহিন হোসেন (৩৫) নামের আরেক ডাকাতকে আটক করেন। আটকৃত সাবেক র‍্যাব সদস্য ও ডাকাত দলের সদস্য খোকনকে ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম, গজারিয়া থানায় তদবির করতে থাকেন।

অবশেষে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ডাকাত সদস্য ও সাবেক র‍্যাব সদস্য খোকনকে রফাদফা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। কালিয়াকৈর থানা পুলিশ দুপুরের দিকে আটককৃত শাহিন ও দুই ট্রাক উদ্ধারকৃত মালামাল নিয়ে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে আসেন। তবে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ কর্মকতার্ ডাকাত সদস্য ও সাবেক র‍্যাব সদস্যকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওই পুলিশ কর্মকতার্ অশ্বীকার করেছেন।

আটককৃত আসামীরা হলো, মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার আনারপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে শাহীন হোসেন (৩০) ও ডাকাত দলের মুল হোতা একই গ্রামের মোঃ ইসলামের ছেলে খোকন মিয়া।

এর মধ্যে পুলিশ খোকন মিয়াকে গজারিয়া থানার একপুলিশ ও কালিয়াকৈর থানার ডাকাতি মামলার তদন্তকারী কর্মকতার্ ভজন চন্দ্র রায় অজ্ঞাত কারণে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ঈদের দিন রাতে ডাকাতির সময় স্থানীয় জনতা ও আব্দুল মোমেন কোম্পানির নিরাপত্তাকমর্ীরা রাজিব মিয়া (২৫) ও রাজ ওরফে বাতেনকে (৩৮) আটক করে গণধোলাই দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ আটককৃত ডাকাত সদস্যদের উদ্ধার করে মিজার্পুরের কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। গ্রেপ্তারকৃত আরো দুই ডাকাত সদস্য হলো, ঝালুকাঠি জেলার নলসিটি উপজেলার খুরনা গ্রামের হাবিব খলিফার ছেলে রাজিব, নেত্রকোনা জেলার খানিয়া জুড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের সামছু আহমেদের ছেলে রাজ ওরফে বাতেন।

কালিয়াকৈর ও গজানিয়া থানা পুলিশ, এলাকাবাসী ও মামলার এজাহারে জানা যায়, গত ১৪ মে ঈদের দিন রাত সাড়ে সাতটার দিকে ২৫-৩০ জনের একদল হ্যাফপ্যান্ট পড়া ডাকাত সদস্য তিনটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে আব্দুল মোমেন কোম্পানির সাইট অফিসে ঢুকেন। সেখানে ডাকাত সদস্যরা অস্ত্রের মুখে নিরাপত্তা কমর্ীদের জিম্মি করে একটি কক্ষে নিয়ে বন্ধি করে।

পরে ওই সাইট অফিসে বিভিন্ন গাড়ী থেকে ব্যাটারি, তামার তার মোটর পাম্পসহ নানা মালামাল লুট করে। পরে নিরাপত্তাপত্তাকমর্ীদের কাছে থাকা মোবাইল সেট, নহদ টাকাসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় কয়েকজন নিরাপত্তাকমর্ী কৌশলে রশি দেওয়া বেধে রাখা হাত খুলে দুই ডাকাতের উপর ঝাপটে পড়ে একটি কক্ষের ভিতর আটকিয়ে রাখেন। পরে ওই কোম্পানির সাইটের মসজিদ থেকে মাইকে ডাকাতির খবর ঘোষণা দিলে আশপাশের লোক এগিয়ে এসে দুইজনকে ধরে গণধোলাই দেয়। পরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেন।

 

এঘটনায় পরের দিন আব্দুল মোনেম কোম্পানির নিরাপত্তা কমর্ীর সুপারভাইজার মাসুদ রানা বাদী হয়ে ছয় ডাকাত সদস্যর নাম উল্লেখ্য করে, আরো অজ্ঞাত ২৫-৩গ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। এঘটনায় কালিয়াকৈর থানা পুলিশের কর্মকতার্ এসআই ভজন চন্দ্র রায় রোববার ভোরে গজারিয়া উপজেলার আনারপুর গ্রামের সাবেক র‍্যাব সদস্য খোকন মিয়ার বাড়ী থেকে ডাকাতি হওয়া বিপুল পরিমাণ ব্যাটারি, তামার তার, গাড়ীর যন্ত্রাংশ, মোটর পাম্পসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করেন। এঘটনায় দুই জন আটক করলেও অজ্ঞাত কারণে একজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখান।

গজারিয়া উপজেলার ভবের চর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সিরাজ উদ্দিন জানান, কালিয়াকৈরে ডাকাতির মালামাল শাহ আলমের বাড়ীর একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করেন। এসময় খোকন ও শাহীন নামের দুইজনকে পুলিশ আটক করলেও দুপুরের পর অজ্ঞাত কারণে খোকনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শাহীন, খোকন ও ওবায়দুল নামের তিনজন শাহ আলমের বাড়ীর কয়েকটি কক্ষ নিয়ে ডাকাতি, চোরাই মালামাল রক্ষনাবেক্ষন করতো।

গজারিয়া থানার এসআই মোঃ কামাল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ কয়জনকে নিয়ে গেছেন তা তার জানা নেই।

কালিয়াকৈর থানার পুলিশ কর্মকতার্ এসআই ভজন চন্দ্র রায় জানান, ওই ঘটনায় দুইজনকে থানায় আনা হলেও খোকনকে মালামাল সিজার লিষ্টে স্বাক্ষী রাখা হয়েছে। এই কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

কালিয়াকৈর থানার ওসি মোঃ মনোয়ার হোসেন চৌধুরি জানান, আসামী ছাড়ার বিষয়টা আমি জানি না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap