আজ ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কালিয়াকৈরে পরিষদ ও প্রশাসনের দ্বন্দ্বে সকল অনুষ্ঠান বর্জন ঘোষণা

ফজলুল হক, কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি :

 

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনের সকল অনুষ্ঠান বর্জন করেছে উপজেলা পরিষদ। নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রলাপের অভিযোগ তোলে রোববার থেকে এ বর্জনের ঘোষণা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন সিকদার। পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের এমন দ্বন্দ্বে উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে বলেও সুশিল সমাজের লোকজন।

উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে রোববার সকালে অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের এবং উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০২০ উপলক্ষে সম্মাননা ও পদক বিতরণ অনুষ্ঠান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি। কিন্তু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন সিকদার উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হলেও ওই ব্যানারে তাকে বিশেষ অতিথি করা হয়। ওই ব্যানারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ কাজী হাফিজুল আমিনকে নিয়ম বহিঃভুতভাবে অনুষ্ঠানের সভাপতি করা হয়। এ কারণে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওই অনুষ্ঠানটি বর্জন ঘোষণা করেছেন। তার সঙ্গে একাত্নতা প্রকাশ করে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আজাদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা জায়দা নাসরিনও ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেন। শুধু শিক্ষা দপ্তরেই নয়, গত দেড় বছর ধরে মেন্যুয়াল অনুযায়ী উপজেলার ১৭টি দপ্তর উপজেলা পরিষদের আওতায়। কিন্তু উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ মেনুয়্যাল ভেঙ্গে নিজে সভাপতি দায়িত্ব পালন করে আসছে। এছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে উপজেলা পরিষদকে কোনো কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত না করে তিনি নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। ফলে উপজেলা পরিষদ রোববার থেকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচি বর্জন ঘোষণা করেছে। তবে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের এমন দ্বন্দ্বে উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে বলেও সুশিল সমাজের লোকজন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলাম জানান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয় উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি হলেও মন্ত্রী মহোদয়ের অনুষ্ঠান হলে সেখানে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও মহোদয়। এ কারণে অনুষ্ঠানে উনাকে সভাপতি করা হয়নি।

কালিয়াকৈর উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ কাজী হাফিজুল আমিন জানান, শিক্ষা কমিটির সভা ছিল না, এটা পদক বিতরণী অনুষ্ঠান ছিল। সরকারী প্রটকলে যেভাবে করা হয় আজকের অনুষ্ঠানটি সেভাবেই করা হয়েছে। সরকারী প্রোগ্রামে একটা গাইডলাইন দেওয়া হয় সেভাবেই প্রোগ্রামটি করা হয়। আর চেয়ারম্যান হয়তো অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তাই প্রোগ্রামে আসেনি। এছাড়া অনুষ্ঠান বর্জনের বিষয়টি আমার জানা নেই, এটা উনার সাথে কথা বলেন বলেও জানান তিনি।

কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন সিকদার জানান, গত দেড় বছরে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার মন গড়া কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষা ও যুবক অধিদপ্তর উপজেলা পরিষদের আওতায় হলেও তাকে বিশেষ অতিথি করেন। তিনি মেনুয়্যাল ভেঙ্গে নিজে সভাপতি দায়িত্ব পালন করে আসছে। এছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে উপজেলা পরিষদকে কোনো কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত না করে তিনি নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। ফলে উপজেলা পরিষদ কর্মসূচি বর্জন করা হয়েছে।

 

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap