আজ ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদী ভাঙ্গনের তীব্রতায় নিঃচিহ্ন দুটি গ্রাম, হুমকির মুখে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কুড়িগ্রাম থেকে-

কুড়িগ্রামের ভূরঙ্গামারীতে দুধকুমার নদীর ভাঙ্গনে বিলীনের পথে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা ও চরভূরঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম। ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে ঐ
গ্রামের ৩ টি মসজিদ সহ কয়েকশ হেক্টর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি। ভাঙ্গনের তীব্রতায় হুমকির মুখে পরেছে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুধকুমার, ফুলকুমার, কালজানী, সংকোশ, গঙ্গাধরসহ
সবকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুর করেছে ফলে প্লাবিত হওয়া নিুাঞ্চলগুলো জাগতে শুরু
করেছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া শাক-সবজি সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু নদ নদীগুলোর পানি কমে যাওয়ায় দুধকুমার ও কালজানী নদীর ভাঙ্গনের তান্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।

উপজেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সদর ইউনিয়নের নলেয়া, কামাত
আঙ্গারিয়া, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা,
পাইকডাঙ্গা, সোনাহাট ব্রীজের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিনপাড়, বলদিয়া ইউনিয়নের হেলডাঙ্গা, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুঠি, তিলাই ও শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার লোকালয়ে যে পানি
ঢুকে পড়েছিলো তা নামতে শুরু করেছে। কয়েকদিনের অব্যাহত খরায় চরাঞ্চলের আবাদি জমি সহ দ্বীপচরগুলো
জেগে উঠেছে। যদিও খাল, বিল, নালা, ডোবা, পুকুর, জলাশয়গুলো পানিতে টইটুম্বুর হয়ে
আছে। নিমজ্জিত হওয়া পাট, ভুট্টা, কাউন, চিনা, বাদাম, মরিচ, পটল, ঝিংগাসহ নানা রকম সবজির
ক্ষেত, বীজতলা ও বেশ কিছু এলাকার আউশ ধানের ক্ষেত জেগে উঠলেও ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে দুই দফা বন্যায় মোট ১২৮৮৪টি পরিবারে ৭৫০ হেক্টর জমির
ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে বীজতলা ১১৬ হেঃ, আউস ২০হেঃ, ভূট্টা ১৫ হেঃ, শাক- সব্জি ২৮০হেঃ, মরিচ ৬০হেঃ এবং পাট ১৭২হেঃ। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমান ৪ হাজার ৮শ ৫৪ দশমিক
৪১ লক্ষ
টাকা।এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন
উপজেলা কৃষি
কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। পানি কমে যাওয়ায় দুধকুমার ও কালজানী নদীর
তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের
তীব্রতা বেড়েছে। লোকজন বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। দুধকুমার নদী
ভাঙ্গনের ফলে
বিলীনের পথে পাইকেরছরা ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা ও ইসলামপুর গ্রাম দুটি।
হুমকির মুখে পরেছে
পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আব্দুল করিম ১৫শ নামের সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।
বদলে যাচ্ছে এলাকার মানচিত্র। আতংকিত হয়ে পরেছে ভাঙ্গনকবলিত এলাকার মানুষ।
বসতভিটা,

বাঁশঝার, গাছবাগান ও আবাদী জমি চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। বসতভিটা হারিয়ে
নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে
ছুটোছুটি করছে মানুষ।
ভাঙ্গনে ভিটে হারা ইসলামপুর গ্রামের আলাউদ্দিন ও আজগর আলী বলেন, প্রায় পঞ্চাশ
বছর আগে
হামার বসত ভিটা নদীত হারায়ছি বাহে তারপর ফিরে পাইছিলাম আবার হারাইলাম
এহন কি করি
কোটে যামো বাহে। পাইকডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক
আমিনুর রহমান বলেন,
নদী যেভাবে ভাংগছে তাতে বিদ্যালয় দুটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পরছে। তাই তিনি
ভাঙ্গন রোধে
তড়িৎ ব্যাবস্থা নেয়ার দাবী জানান।
অপরদিকে ভাঙ্গছে কালজানী নদী। বড় বড় চাপ ধরে পাকারাস্তা, ঘাট, ঘাটসংলগ্ন
বাজার বসতভিটা,
গাছবাগান, বাঁশঝাড় আর আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে । হুমকিতে
আছে বিজিবি ক্যা¤প,
মডেল প্রাইমারী স্কুল এবং জনবসতিসহ বিস্তীর্ন এলাকা।ইসলামপুরের নদী
ভাঙ্গনের শিকার মানিক
উদ্দিন ব্যাপারী, অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিকবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ মিজানুর
রহমান, হাজী আ:
রশীদ,ও আব্দুল হালিম ভাঙ্গন রোধে দ্রুত একটি কার্যকরী বাঁধ দেয়ার দাবী করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা), আলোকিত ভূরুঙ্গামারী ও
দুধকুমার নদী
ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহানারা বেগম মীরা বলেন, “আমাদের
আবেদনের প্রেক্ষিতে
ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি ¯িপকার ফজলে রাব্বী মিয়া ও সংশ্লিষ্ট
মন্ত্রনালয়ের সচিব ভাঙ্গন

নদী ভাঙ্গনের বিষয়ে চরভূরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম ফজলুল হক, শিলখুড়ি
ইউপি
চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ ও পাইকেরছরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর
রাজ্জাক সরকার
বলেন,আমাদের ইউনিয়নের প্লাবিত হওয়া নিুাঞ্চলগুলো জেগে উঠছে । নদী ভাঙনের
তীব্রতাও বৃদ্ধি
পাচ্ছে। ভাঙ্গনের তথ্য আমরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানিয়েছি। বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে
ক্ষতিগ্রস্থ্য মানুষের
দুর্ভোগ কমাতে আমরা আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভাঙ্গন কবলিত মানুষের
দুর্দশা লাঘবে সরকারী
সহযোগিতার জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি ।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান
সংশ্লিষ্ট ইউপি
চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত
পরিদর্শন শেষে নদী শাসনের
জন্য একটি প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত:শিলখুড়ি খেয়া ঘাটের
দুইপারের জনগনের
পারাপারের সুবিধার্থে ঘাট উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন। এছাড়াও
কালজানি ও দুধকুমার নদীর
ভাঙ্গন রোধে ”দুধকুমার নদী উন্নয়ন প্রকল্প” নামে একটি প্রকল্প তৈরীর কাজ চলছে
বলেও তিনি
জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম বলেন, আমি ইতোমধ্যে ভাঙ্গন
কবলিত সংশ্লিষ্ট এলাকা
পরিদর্শন করেছি। বন্যা পরিস্থিতি যেভাবে মোকাবেলা করেছি তেমনি নদী ভাঙ্গন
রোধেও প্রয়োজনী

ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে একটি প্রস্তাব প্রেরণ
করা হয়েছে। আশা করছি
দ্রুতই এর সমাধান দৃশ্যমান হবে ।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ
Share via
Copy link
Powered by Social Snap