ক্যান্সার প্রতিরোধে ঢাল হতে পারে আঁশসমৃদ্ধ এই খাবার

ইফফাত জাহান তিশা, 

খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বেশিরভাগ সময়ই সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি, পুষ্টিকে নয় অথচ বিশেষজ্ঞরা বারবার মনে করিয়ে দেন, খাবারে থাকা সাধারণ আঁশ বা ফাইবার দেহকে দীর্ঘস্থায়ী নানা অসুখ থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও ফাইবার কার্যকর হতে পারে।

আঁশ অন্যান্য পুষ্টির মতো হজম হয় না বরং খাবারকে ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক বলে মনে করা হয়।

মসুর ডাল 

মসুর ডালে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় আঁশ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে। মসুর ডালে থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ কোলনে ফারমেন্ট হয়ে ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এসব ব্যাকটেরিয়া বুটাইরেট নামক যৌগ তৈরি করে, যা অন্ত্রের প্রদাহ কমায় এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে। এক বাটি ডাল তাই কোলনকে নীরবে সুরক্ষা দিতে পারে।

তিসি বীজ 

আকারে ছোট হলেও তিসি বীজে প্রচুর দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় আঁশ থাকে। এতে আছে লিগনানস নামক বিশেষ যৌগ যা শরীরে দুর্বল ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে। স্তন ক্যানসারের মতো হরমোন-সম্পর্কিত ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে লিগনানস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আঁশের টক্সিন পরিষ্কার করার ক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে তিসি বীজ শুধু একটি ট্রেন্ডি সুপারফুড নয় বরং ক্যানসার প্রতিরোধে এক শক্তিশালী অস্ত্র।

ছোলা 

প্রতি কাপ ছোলায় প্রায় ১২ গ্রাম খাদ্য আঁশ থাকে। তবে আঁশের বাইরেও এতে আছে স্যাপোনিনস, যা টিউমার বৃদ্ধিকে বাধা দিতে পারে। ছোলার আঁশ কোলনে ফারমেন্ট হয়ে এমন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে, যা ক্ষতিকর কোষের বেঁচে থাকার পরিবেশকে দুর্বল করে দেয়। ফলে প্রতিদিনকার ছোলা শুধু পেট ভরানোর কাজই করে না, ক্যানসারের বিরুদ্ধেও একটি প্রাকৃতিক প্রতিরোধ তৈরি করে।

বাঁধাকপি 

অবহেলিত হলেও বাঁধাকপি আঁশ ও ভিটামিন সি-তে ভরপুর। এর সবচেয়ে বড় শক্তি গ্লুকোসিনোলেটস নামক যৌগ যা বাঁধাকপি কাটা বা চিবানোর সময় সক্রিয় হয়ে যায়। এগুলো শরীরের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে জোরদার করে যাতে কার্সিনোজেন দ্রুত নিরপেক্ষ হয়। আঁশের সঙ্গে মিলে বাঁধাকপি হয়ে ওঠে ক্যানসার-উদ্দীপক উপাদানের বিরুদ্ধে এক প্রাকৃতিক ঢাল।

ওটস্ 

কোলেস্টেরল কমাতে ওটসের জনপ্রিয়তা আছে বিটা-গ্লুকান আঁশের কারণে। একই বিটা-গ্লুকান শরীরের রোগ প্রতিরোধ কোষকে আরও শক্তিশালী করে তোলে যাতে তারা অস্বাভাবিক কোষ, এমনকি সম্ভাব্য ক্যানসার কোষও শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে। ফলে ওটস্ একদিকে রক্তনালি পরিষ্কার রাখে অন্যদিকে শরীরের ক্যানসার প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।

আঁশ হয়তো আমাদের চোখে সাধারণ এক উপাদান কিন্তু এর প্রভাব অসাধারণ। প্রতিদিনের খাবারে মসুর ডাল, ছোলা, ওটস্, তিসি বীজ কিংবা ফলমূল যোগ করলে তা শুধু হজমশক্তিই বাড়াবে না দীর্ঘমেয়াদি রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হবে। নিয়মিত খাবারের তালিকায় আঁশসমৃদ্ধ এই খাবারগুলো রাখা তাই সুস্থ জীবনের জন্য অতীব জরুরী।।

 

     এ বিভাগের আরো সংবাদ