আজ বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস

লেখক : মো: শাহরিয়ার হোসেন রিশাদ

৬ অক্টোবর আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য “অনন্য ও ঐক্যবদ্ধ”। দিবসটির উদ্দেশ্য হলো সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং সমাজে তাদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা।শুধু শারীরিক পুনর্বাসন নয়, বরং কথা বলার অধিকার ও যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার জীবিত জন্মে প্রায় ১.৫-৩ জন শিশু সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮ মিলিয়ন মানুষ এই অবস্থার সঙ্গে বসবাস করছে। আমেরিকান স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ-হিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন (ASHA) তথ্যমতে, সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশের ভাষা ও যোগাযোগজনিত সমস্যা  থাকে। এতে কথা বলতে অসুবিধা, কথার অস্পষ্টতা, কথা দেরিতে বলা ও খাদ্য গলাধঃকরণের সমস্যা দেখা দেয়, যা তাদের স্বাভাবিক জীবনকে আরও অস্বাভাবিক করে তোলে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে গড়ে ৩.৪ জন সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। অর্থাৎ দেশে কয়েক লাখ শিশু শারীরিক অক্ষমতার পাশাপাশি ভাষা ও যোগাযোগের সমস্যায় ভুগছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই শিশুদের বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি সেবা পায় না।

এক্ষেত্রে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎসক থেরাপির মাধ্যমে আক্রান্ত শিশুর যোগাযোগ ও খাবার গলাধঃকরণ সমস্যার সমাধান ,ভাষা বোঝা ও প্রকাশের ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং সামাজিক সংযোগ স্থাপন ও সমাজে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি জেলা ও ঊপজেলা পর্যায়ে  স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি সেবা নিশ্চিত করা যায়, তবে সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত হাজারো শিশু ভাষা, যোগাযোগ এবং খাবার গলাধঃকরণ সমস্যা সঠিক সমাধান পাবে এবং সমাজে সক্রিয় অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে।

৪র্থ বর্ষ স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি বিভাগ,বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশন্স ইন্সটিটউট,সেন্টার ফর দ্যা রিহায়বিলেটেশন অব প্যারালাইজড (সিআরপি),সাভার,ঢাকা

     এ বিভাগের আরো সংবাদ