বাংলাদেশের নারীদের কোমর ব্যথা করণীয় ও সচেতনতা

রাবেয়া খাতুন

৪র্থ বর্ষ ফিজিওথেরাপি

বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে কোমর ব্যথা একটি নীরব অথচ বিস্তৃত স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে গৃহিণী, শ্রমজীবী নারী ও মা হওয়ার পর নারীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ, সন্তান পালনের দায়িত্ব এবং পুষ্টিহীনতা এই ব্যথার অন্যতম কারণ।একটি জাতীয় পর্যায়ের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬৫% প্রাপ্তবয়স্ক নারী জীবনের কোনো এক পর্যায়ে লো-ব্যাক পেইনে ভুগেছেন। শহরাঞ্চলের নারীদের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের নারীদের মধ্যে এর হার বেশি।

এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নারীদের নয়।কানাডার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৭২ শতাংশ নারী জীবনে একবার হলেও লো-ব্যাক পেইনের শিকার হন। আর ভারতে, বিশেষ করে গৃহিণীদের মধ্যে এই সমস্যা ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ নারীর মধ্যে দেখা যায়।

দীর্ঘ সময় মেঝেতে বসে কাজ করা, ভারী জিনিস তোলা এবং ভুল ভঙ্গিতে হাঁটা-বসা কোমরে বাড়তি চাপ তৈরি করে। গর্ভধারণ ও প্রসবের ফলে শরীরের গঠনে পরিবর্তন আসে, যা কোমরের মাংসপেশিকে দুর্বল করে তোলে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D-এর অভাব, অতিরিক্ত ওজন এবং মেনোপজ-পরবর্তী হরমোন পরিবর্তন ব্যথা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এই ব্যথা অবহেলা করলে তা দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল রূপ নিতে পারে। এক্স-রে, এমআরআই ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করা যায়। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে লাম্বার স্পন্ডিলোসিস, ডিস্ক স্লিপ, অস্টিওপোরোসিস বা কিডনির সমস্যা।

চিকিৎসায় বিশ্রাম, ব্যথানাশক ওষুধ এবং ফিজিওথেরাপি অন্যতম। বিশেষ করে ফিজিওথেরাপি একটি নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি, যা পেশি শক্তিশালী করে, ব্যথা কমায় এবং স্বাভাবিক চলাফেরা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

বাড়িতে কিছু নিয়ম মেনে চললে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেমন- ১. প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট হালকা ব্যাক স্ট্রেচিং ও পেলভিক টিল্ট এক্সারসাইজ করা ২. চেয়ারে বসে কাজ করা ৩. মেঝেতে না বসা ৪. ভারী জিনিস তুলতে হলে হাঁটু ভেঙে তোলা ৫. মাঝারি শক্ত বিছানায় ঘুমানো ৬. পর্যাপ্ত পানি পান ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ৭. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।নারীদের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য কোমর ব্যথাকে আর অবহেলা নয় — প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ ও সচেতনতা।

     এ বিভাগের আরো সংবাদ