মো: রাকিব হোসেন
রাফি পাঁচ বছরের একটি শিশু। সে খুব হাইপার, মাঝে মাঝে হঠাৎ দুই কানে হাত দিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে, কারও সঙ্গে তেমন মিশে না এবং কথা বলে না। যখন অন্য শিশুরা খেলাধুলা আর গল্পগুজবে ব্যস্ত, তখন রাফি চুপচাপ নিজের খেলনা নিয়ে খেলতে থাকে। তার মা-বাবা প্রথমে ভেবেছিলেন, ছেলেটা হয়তো লাজুক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তারা বুঝতে পারলেন, রাফির কথা বলার সমস্যা রয়েছে। রাফির বাবা রাফিকে নিয়ে একজন ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন। তিনি পরীক্ষা করে দেখতে পেলেন রাফি, অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারে (ASD) আছে। অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (ASD) একটি স্নায়ুবিক বিকাশ জনিত রোগের নাম, যা সামাজিক যোগাযোগ, ভাষা এবং আচরণের উপর প্রভাব ফেলে। অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেরই যোগাযোগ ও ভাষা ব্যবহারে সমস্যা থাকে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবন ও সামাজিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন, তার এই সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য একজন স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির চিকিৎসকের কাছে শরণাপন্ন হওয়ার জন্য।
বিশ্ব ১৮ তম, অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে, (সিআরপির) স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো: রাকিব হোসেন। বাংলাদেশে অটিজম আক্রান্ত শিশুদের কিছু পরিসংখ্যান জরিপ করেন তিনি বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে বিভিন্ন গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ গবেষণায় দেখা গেছে দেশে প্রতি ৫৮৯ শিশুর মধ্যে একজন অটিজমে আক্রান্ত। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ (২০২০-২১) অনুযায়ী, বাংলাদেশে অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশুর সংখ্যা প্রায় ৬১ হাজার এবং অপর একটি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে দেশে অটিজমে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি। তিনি আরো বলেন দেশের বিশাল এই জনগোষ্ঠী এই রোগে আক্রান্ত রয়েছে। এর পরিধি দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অটিজম সম্পর্কে আমাদেরকে আরো সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সবাইকে অটিজম সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
অটিজম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সম্পর্কে ময়মনসিংহ ফিজিওথেরাপি হেলথ সাইন্স কলেজের স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপির বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে যে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী অটিজমে আক্রান্ত রয়েছে তাদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে শহর কেন্দ্রিক খুবই অল্প কিছু থেরাপি সেন্টার থাকলেও সরকারিভাবে বাংলাদেশ উপজেলা সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সেবা নেই। তাই সরকার এবং এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এগিয়ে আসে, তাহলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রত্যেক উপজেলা সরকারি হাসপাতালে এবং প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে দক্ষ স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎসক, অকুপেশনাল থেরাপি চিকিৎসক এবং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে উচিত এই সেবাটি চালু করা, যেন এই জনগোষ্ঠী সমাজে বোঝা না হয়ে থাকে। তারা যদি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা সেবা সহজে ও অনায়াসে হাতের নাগালে পায়, তাহলে তারা দেশের জন্য জন সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।