লালনের দেহত্যাগ দিবস উপলক্ষে, অসাধারণ একটি কবিতা: “লালন”

লালন

কবি – মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু:

 

পথে পথে ঘুরেছে মানবাত্মা দরবেশ মুসাফির –
নিজেই বলেছিলে তুমি যে এক লালন ফকির।

‘মরমি ছিলে মানুষের ঝংকারে ও হৃদয় মাজারে –
তাইতে সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে’।

মানব ধর্মের পতাকা তলে দেখেছো মানবতা
মনে পড়ে মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধীজি’কে,
মহাত্মা উপাধির পঁচিশ বছর আগের সেই কিতাব-
লালন পেয়েছে তাঁর আগে মহাত্মা উপাধির খেতাব

মৃত্যুর পর হিতকরি পত্রিকায় নাই আদি জীবনী, জনতার জ্ঞাতার্থেঃ লেখার মতো কিছু পেলেন না –
তাঁহার শিষ্যরা বলিতে পারে না কি জানে না ?

কে বলবে কোথা ছিলো তাঁর জন্ম কিইবা পরিচয়
মতান্তর ও বিতর্ক আছে অনেক লোকেই কয়।

সাধক নিজেই করেনি গুপ্ত কিছুরই প্রকাশ –
লোকমুখে স্মৃতিকথা কিভাবে হবে বিকাশ।

কেউ বলে অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলায়-
ঝিনাইদহ মহকুমার হারিশপুর গ্রামে জন্মায়।

আবার কারোর মতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার, চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন-
মোহাম্মদী পত্রিকা যশোরের ফুলবাড়ী বলেন।

তরুণ বয়সে তীর্থ ভ্রমণে গুটি বসন্তে আক্রান্ত –
সঙ্গীরা মৃত ভেবে লালনকে করেন পরিত্যাক্ত।

কালিগঙ্গা নদীতে ভেসে বেড়ায় মুমূর্ষু শিশু লালন,
দেখে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন জনৈক মলম শাহ –
মতিজানের অক্লান্ত সেবায় সুস্থ হলেন ফকির শাহ।

ঐ সেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে একটি চোখ হলো নষ্ট –
কুষ্টিয়া ছৈউড়িয়াতে থেকে গেলেন ছিলো বড় কষ্ট।

দার্শনিক গায়ক সিরাজ সাঁই এর সাথে সাক্ষাত-
সে করে শিষ্যত্ব গ্রহণ শেষে কোলাকুলি মোলাকাত

সংসারী কখনো বৈরাগী সন্নাসী ছিলেনা অহংকারী
ছিলো সামান্য কিছু জমি ঘরবাড়ী সওয়ারী ঘোড়া,
শত বছরের অধিক ছিল যে তাঁর আয়ুস্কাল –
তাঁহার প্রিয় খাবার দুধ ভাত মাছ কিছুকাল।

মৃত্যুর প্রভাতফেরীর সময় বলেন- আমি চলিলাম-
মানবের জয়গান বাজনা রেখে দেহত্যাগ করিলাম।

দাফনকাফন সৎকারে ছিলোনা হিন্দু মুসলিম প্রীতি
আখড়া ঘরের ভিতর সমাহিত সমাধী এটাই রীতি।

‘মরমি ছিলে মানুষের ঝংকারে ও হৃদয় মাজারে –
তাইতে সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে’।