
শারমিন আক্তার।
ডিজিটাল যুগে শিশুর হাতে মোবাইল বা ট্যাব তুলে দেওয়া এখন সাধারণ অভ্যাস। অনেকে ভাবেন এতে শিশু শান্ত থাকে, সময় কাটে। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ছোট শিশুদের (১-৩ বছর) মস্তিষ্ক ও ভাষা বিকাশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর।
গবেষণায় দেখা গেছে— প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট অতিরিক্ত হ্যান্ডহেল্ড স্ক্রিন ব্যবহারে শিশুর কথা বলা বিলম্বিত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৯% বেড়ে যায়। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় শিশুর মস্তিষ্কে থাকা white matter-এ, যা শেখা, ভাষা আয়ত্ত করা এবং মনোযোগ ধরে রাখার জন্য অপরিহার্য।
শিশুর শেখার প্রক্রিয়া একেবারেই ভিন্ন। তারা শেখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে, মানুষের মুখের অভিব্যক্তি দেখে এবং কন্ঠস্বর শুনে। বাস্তব জীবনের এই অভিজ্ঞতা কোনো স্ক্রিন দিতে পারে না। ফলে শিশু শুধু ভাষাতেই নয়, আবেগ, কল্পনাশক্তি ও সামাজিক মেলামেশার ক্ষেত্রেও শিশুরা পিছিয়ে পড়ে।
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে যেসব সমস্যা বাড়ে
১.পরিবারের সঙ্গে মানসিক যোগাযোগ কমে যাওয়া।
২.প্রকৃতি দেখা ও কল্পনাশক্তির খেলা হ্রাস পাওয়া।
৩. রাগ, আচরণগত সমস্যা এবং পড়াশোনায় দুর্বলতা তৈরি হওয়া।
শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা। তাই প্রতিকার হিসেবে—
শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, বেশি বেশি কথা বলুন, গল্প বলুন, ছবি বই দেখান।খেলাধুলা ও গান শোনানোর মতো কার্যক্রমে যুক্ত করুন। প্রয়োজনে একজন কোয়ালিফাইড রিহ্যাবিলিটেশন প্রফেশনাল স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টের পরামর্শ নিন
আমাদের মনে রাখতে হবে— শিশুর জন্য প্রতিটি দিনই নতুন শেখার সুযোগ। তাই আসুন, এখনই সিদ্ধান্ত নেই— শিশুদের হাতে স্ক্রিন নয়, দিই কথা বলার, শেখার আর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ।
লেখক : স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট