১৬ আসনে বিকল্প দিচ্ছে বিএনপি

অনলাইন ডেস্ক : সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে দলীয় প্রার্থী শূন্য হয়ে যাওয়া আসনগুলোতে বিকল্প প্রার্থী দিচ্ছে বিএনপি। ঢাকা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবু আশফাক। উপজেলা  চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ নিয়ে আইনি জটিলতায় সর্বোচ্চ আদালতে তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে গেছে।  সেখানে বিএনপি, ২০ দল বা ঐক্যফ্রন্টের এখন কোনো প্রার্থী নেই। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি সালমা ইসলাম। বিএনপি জোট তাকেই সমর্থন দিয়েছে।
সিলেট-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়ার জটিলতায় সর্বোচ্চ আদালতে তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। সেখানে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে মো. মুকাব্বির খানকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি।  
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ঋণখেলাপির কারণে আফরোজা খান রীতার মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে। সেখানে গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে সাবেক এমপি মফিজুল ইসলাম খান কামালকে সমর্থন দিতে পারে বিএনপি।
জয়পুরহাট-১ আসনে প্রার্থী ছিলেন ফজলুর রহমান। উপজেলা চেয়ারম্যান নিয়ে আইনি জটিলতায় গতকাল সর্বোচ্চ আদালতে তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়। সেখানে বিএনপির ফয়সাল আলিম নামে আরেক প্রার্থী বৈধ আছেন। এখন ধানের শীষের প্রতীক তাকে দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।
নাটোর-১ আসনে আইনি জটিলতায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী মনজুরুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল হয়। সেখানে বিএনপির শিরিন আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।
রাজশাহী-৬ আসনে আবু সাঈদ চাঁদের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় পর সেখানে ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দল বা বিএনপির স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থীও নেই। তাই ওই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন বা ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রাথী বাবুল ইসলামকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি।
ঝিনাইদহ-২ আসনে আবদুল মজিদের প্রার্থিতা বাতিলের পর সেখানেও বিএনপি, ২০ দল বা ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই। সেখানে বাসদের আসাদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ফখরুল ইসলাম ও জাকের পার্টির আবু তালেব সেলিম প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে বাসদের প্রার্থী আসাদুল ইসলামকে বিএনপি জোট সমর্থন দিতে পারে।
বগুড়া-৩ আসনে আবদুল মহিত তালুকদারের জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসেন (আপেল) এবং আবদুল মজিদের (ডাব) মধ্যে কোনো একজনকে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
ঢাকা-২০ আসনে ধানের শীষের তমিজউদ্দিনের জায়গায় বিকল্প কোনো প্রার্থী নেই। এই আসনটিতে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডির এমএ মান্নান তারা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাকেই সমর্থন দেবে ঐক্যফ্রন্ট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনকে। কিন্তু তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ওই আসনে বিএনপির বৈধ প্রার্থী নাছির উদ্দিন হাজারী লড়ছেন। এ নিয়ে তিনি আদালতে রিট করে ধানের শীষ প্রতীক চাইবেন বলে জানিয়েছেন।
রাজশাহী-৫ আসনে নাদিম মোস্তফা প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। সেখানে বিএনপি থেকে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ম-লকে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী দেওয়া হয় সালেক চৌধুরীকে। আইনি জটিলতায় গতকাল তিনি সর্বোচ্চ আদালতে হেরে যান। সেখানে বিএনপির আরেক প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতেই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক থাকছে। আইনি জটিলতায় মানিকগঞ্জ-১ আসনে এসএ কবীর জিন্নাহর পরিবর্তে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলু ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।  
চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিল এমএ হান্নান। কিন্তু উচ্চ আদালতে তার প্রার্থিতা স্থগিত হয়ে যায়। সেখানে বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসুও বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তাকে নিয়ে বিএনপি এখন চিন্তাভাবনা করছে।
বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মোর্শেদ মিলটন। সেখানে বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো প্রার্থী নেই। ওই আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফজলুল হক ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মোনতেজার রহমান। বিএনপি এই দুজন থেকে একজনকে বেছে নিতে পারে।
জামালপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়ায় ওই আসনে উদীয়মান সূর্য প্রতীকে গণফোরামের সিরাজুল হককে বিএনপি সমর্থন দেওয়ার চিন্তা করছে। দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল নামে বিএনপির আরেকজন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। এ নিয়ে দুলাল রিটও করেছেন। উচ্চ আদালতে আগামীকাল এ নিয়ে শুনানি রয়েছে। এর পরই বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে।