স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে এবার ক্লিন ইমেজের কেউ সভাপতি হতে পারেন।

বিশেষ প্রতিনিধি- মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু:

দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর হতে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন। যুবলীগের ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ আরও তিনটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ একই সঙ্গে ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ।
আগামী ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হতে যাচ্ছে।

প্রায় দশককাল পর সম্মেলন ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন কারণে বিগত দিনে যাহারা দুর্নাম রটিয়েছে ও কুড়িয়েছে, এমন নেতারা এবার বাদ পড়ার সম্ভাবনা বেশী।

বিগত ১৯৯৭ সালের তৎকালীন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রথম কমিটি হয়। পরে ২০০২ সালে প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাধারণ সম্পাদক হন পঙ্কজ দেব নাথ।

সর্বশেষ ২০১২ সালে মোল্লা মো. আবু কাওছারকে সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয়েছিল। বর্তমান কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনেক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির থিংকট্যাংক হিসেবে সাবেক সভাপতি বাহাউদ্দিন নাছিম কাজ করে যাচ্ছেন। তাই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তার প্রভাব থাকবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে লড়াইয়ে এক ডজনেরও বেশি নেতা ইতিমধ্যেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় চার সাংগঠনিক সম্পাদক – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু, খায়রুল হাসান জুয়েল, সাজ্জাদ শাকিব বাদশা এবং আব্দুল আলীম বেপারী রয়েছেন শীর্ষ পদের লড়াইয়ের মাঠে এছাড়াও আরো অনেকেই আছেন। তবে পাল্লা ভারী ক্লিন ইমেজের প্রতিচ্ছবি শেখ সোহেল রানা টিপুর দিকে।

সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে এক এগারোর সময় দল ও নেত্রীর জন্যে কঠিন ভূমিকা পালনকারী ত্যাগী নেতা শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগে নেতৃত্ব পাওয়ার প্রধান মানদণ্ড হোক বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থা ও বিশ্বাস, প্রকৃত ক্লিন ইমেজ, ত্যাগী মনোভাব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের প্রতি আনুগত্যশীল একাত্তরের চেতনা।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে সারাদেশের প্রায় ২,২০০ জন নেতা কাউন্সিলে উপস্থিত থাকবেন বলে আশাবাদী পঙ্কজ দেবনাথ।

নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জনাব নাছিম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সারা দেশের কাউন্সিলর – ডেলিগেটরা নেতা নির্বাচন করবে। তবে সর্বোপরি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সুপরামর্শ অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

জনাব বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে।

বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া ওয়ান-ইলেভেনের সময় অনেকেই নির্যাতিত হয়েছে, ওই সময়ে দলের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছে, তারা এগিয়ে থাকবে।

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কে হবেন কেন্দ্রীয় নেতা দেখার অপেক্ষায় নেতাকর্মীরা।