সাভার আশুলিয়ায় ঈদের বাজার জমে উঠেছে, ক্রেতা বিক্রেতার মিশ্র প্রতিক্রিয়া

খোরশেদ আলম, সাভার প্রতিনিধিঃ

সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক বিপনী বিতান গুলোর দিকে তাকালে মনে হয় ঈদের ছোঁয়া লেগেছে। যদিও ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এরই মধ্যে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে এই এলাকার মার্কেট গুলো। পোশাক কারখানা গুলো আগেই ছুটি হওয়ায় বিকেল থেকেই জমতে থাকে মার্কেট ও শপিং কমপ্লেক্স গুলো। আর এই সুযোগে বিক্রেতারাও দোকানে নতুন নতুন ডিজাইনের পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন বসে আছেন ।

তবে বিক্রেতাদের মতে যেমনটা তারা আশা করেছিলেন তেমন ক্রেতা পাচ্ছেন না। এই এলাকাটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানকার মানুষ শিল্পের সাথেই কোন না কোন ভাবে জড়িত। তাই বেতন ও বোনাস হলেই অবস্থা পাল্টে যাবে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

শনিবার (০১) জুন   সরজমিনে দেখা গেছে, সাভার ও আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি শপিংমল যেমন সাভার নিউমার্কটে, সিটি সেন্টার, নবীনগরের সেনা শপিং কমপ্লেক্স, জামগড়া ও হাসেম প্লাজাসহ বিভিন্ন শপিংমলগুলোতে পোশাক কেনাকাটায় প্রতিনিয়তই ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের। ইফতারের পর থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত ছোট বড় বিভিন্ন বিপণী বিতানে ক্রেতাদের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে।

ঈদের ভীড় বাড়ার আগেই প্রতি বছর নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নেন  আড়ৎ ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন । এবছরও ব্যতিক্রম না করে তিনি আশুলিয়া সমির  প্লাজায় কেনাকাটা করতে এসেছেন। তিনি বলেন, বাবুর মা’র জন্য দুই হাজার টাকা দিয়ে একটি থ্রিপিচর সাথেএকজোড়া স্যান্ডেলও কিনেছি। আর এর সাথে মিলিয়ে  ও কেনা হয়েছে। আমার জন্য একটি পানঞ্জাবী, সার্ট ও পেন্ট নিয়েছি। আর বাবুর যা যা নেওয়ার দরকার সব নিয়েছি। গত বারের চেয়ে এবার ঈদে বিক্রেতারা একটু বেশি দাম রাখছে বলেও জানান তিনি।

সাভারের নিউ মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে আগেভাগেই পরিবার নিয়ে এসেছেন মধ্য বয়সী সাদ্দাম হোসেন । তিনি বাংলা পেপারকে   বলেন, পাঞ্জাবি আর ও ছেলে-মেয়র জন্য পছন্দসই পোশাক কিনতে দোকান গুলোতে ঘুরছি। মনে হয় এখনো ভালো কাপর কেনার জন্য। আমার সাধ্যের মধ্যে তুলনামূলক কম দামে চাহিদামত সব কিছু কিনতে পারলে পরিবারের সবার জন্য কিনবো। তবে পোশাকের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় এখনও ছেলের জন্য এটি পাঞ্জাবি ও মেয়ের লেহেঙ্গা ছড়া কিছুই কেনা হয়নি।

বাইপাইল নিউ  মার্কেটে কথা হয় কাপড় বিক্রেতা ডাবলু ভাইয়ের সাথে। তিনি বাংলা পেপারকে জানান, তার দোকানে ঈদ উপলক্ষে প্রায় ২০ লাখ টাকার বাহারি রং ও ডিজাইনের পোশাক মজুদ করেছেন। তার দোকানে পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রিপিচ, ও ছোটদের পোশাকের অনেক কালেকশন আছে। তিনি বলেন, এবার আগে৷ বছরের  তুলনায় ক্রেতা কম তাই কম দামে অল্প লাভেই বিক্রি করতে হচ্ছে পণ্য। এখন মোটামুটি আমাদের মার্কেটে সন্ধ্যার পর লোকজন বেড়ে যায় তাই অনেক রাত পর্যন্ত দোকানে থাকতে হয়।

সাভারের সিটি সেন্টারে একটি সার্ট ও পাঞ্জাবি কেনার জন্য বিভিন্ন দোকানে ঘুড়ে বেরাচ্ছেন আব্দুর রহমান কাজী। তার সঙ্গে কথা হয় । তিনি বাংলা পেপারকে বলেন  এবার ঈদে কম মূল্যে ভালো মানের একটি পাঞ্জাবি নিজের জন্য কিনবো। কিন্তু এখনো তেমন পাঞ্জাবি দেখছি না মনে হয় সেগুলো এক  দিন পর আনবে দোকানদাররা।

অপর দিকে ইউসুফ  নামের এক পোশাক শ্রমিক বলেন, গ্রামের বাড়িতে বাবা, মা, ভাই, বোন ও স্বজনদের জন্যও ঈদের পোশাক কিনতে হবে। তাই আগে থেকেই সবার জন্য দোকান ঘুরে ঘুরে দর যাচাই করে নিচ্ছি। পছন্দের সাথে দামের মিল হলেই কেবল তিনি জিনিস ক্রয় করবো। আর নিজের জন্য ঈদের এক-দুই দিন আগে আসবো৷

এ দিকে পোশাকের সাথে মিলিয়ে এমিটেশন জাতীয় গহনা, টিপ, নেইল পলিশ, মেকাপ, চুড়িসহ প্রসাধনী কিনতে নারী ক্রেতারা দোকানে ভীড় জমাচ্ছেন প্রসাধনী ও গহনা বিক্রির দোকানগুলোতে। তাই অতিরিক্ত ক্রেতা কারণে হিমসিম খাচ্ছেন এই দোকানিরা।

এছাড়া স্বল্প আয়ের ক্রেতারা কম দামে চাহিদামত ঈদ সামগ্রী কিনতে প্রতিদিন ছুটে আসছেন এসব দোকান গুলোতে। আর বিক্রেতারাও এই ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে তাদের দোকানে ঈদ কালেকশন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

ঈদকে সামনে রেখে ছিনতাইয়ের মতো বিড়ম্বনায় পরতে হয় সাধারণ মানুষের। তাই এবার আগে থেকেই পুলিশবাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন পয়েন্টে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।