সরকারের সিদ্ধান্তে, টনক নড়েছে ট্যানারি মালিকদের

বিশেষ প্রতিনিধি:

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করনে কাঁচা চামড়া রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এদিকে দেশীয় শিল্প রক্ষায় কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। তারা বলেছেন, কাঁচা চামড়া বিদেশে রফতানি হলে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকসী বলেন, কাঁচা চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে চামড়া রফতানি করা যাবে এই মর্মে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি আরো জানান, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় নির্ধারণ করা মূল্যে কোরবানির চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে বুধবার সকালে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন।

ঈদের আগে চামড়া ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। এবং মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্যে কাঁচা চামড়া বেচাকেনা করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছিল।

দুঃখজনক ভাবে ঈদের দিন চামড়ার দাম অনাকাঙ্ক্ষিত হারে কমে এলো, যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। যার কারনে আমরা কাঁচাচামড়া রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এছাড়াও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি চামড়ার দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করেন। তিনি বলেন দাম কমার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে।

টিপু মুনশি জানান ব্যবসায়ীরা এখন বলছেন- কাঁচাচামড়া রফতানি করলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু, কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীর জন্য কোনোভাবেই চামড়াশিল্পকে আমরা ধ্বংস করে দিতে পারি না।

এদিকে বুধবার ঢাকা ধানমন্ডিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিটিএ নেতারা বলেন, ২০ আগস্ট থেকে নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্ধারিত দরে লবনযুক্ত চামড়া সংরক্ষণ করা হবে।

এবং কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি করেন তারা। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশীয় শিল্পের ক্ষতি বয়ে আনবে বলে জনান তারা।

তারা আরো বলেন ২০ আগস্ট থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করবো। সেই সময় চামড়ার বাজার স্থিতিশীল থাকবে। আশা করছি এই সময়ের মধ্যে সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ।