শিউলি

– মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু

একদা ঘনঘোর গাচ্ছি রজনীতে

কথিত দেও ভূত প্রেতের সন্ধানে

ঘর হতে এক’পা দু’পায় বাহিরে গেলেম

ঘুরিলাম এদিক সেদিক সারাটি রাত

পেলাম না সেই দানবদের স্বাক্ষাত

তবে পথিমধ্যে দেখা পেলেম শিউলির

হতবিহ্বল আমি হলেম হতবাক নির্বাক

আস্তে আস্তে চুপিসারে তার পানে গেলেম

অকস্মাৎ দেখি সে আমার দিকে তাকিয়ে

চোখাচোখি দেখাদেখি আছে মাখামাখি

কামনার জলে জ্বালাতন হাবুডুবু খায়

আমি লাজলজ্জা ভুলে গেলাম

তার উদার দেহখানিতে ডানা মেলে

হয়ে গেলেম ওর মায়াবী আঁচলে বন্দী

ওহে পরোপকারী সুজন বন্ধুবর

আহ কি মনোরম নেশাধরা সুঘ্রাণ

কি অপরূপ সুন্দর কোমল গড়ন

দুটি ভিন্ন নাকের ডগায় পরম অনুভব

দৃষ্টিনন্দন হরিণীর মতো লাজুক চাহনি

বিশ্বসেরা মিষ্টি মধুর চমকিত হাসিতে

তার না বলা কথার শত বর্ণমালায়

বিনিময়হীন নিষ্কণ্টক ভালোবাসায়

আমার নিরামিষ প্রাণ জুড়িয়ে গেল

মরুভূমি ও পাথরের বুকে বসন্ত ফাগুন

জ্বালাময়ী নরকের ভুবনে স্বর্গীয় সুভাষ

প্রিয়তম এই শিউলিটি সকাল হলেই

চলে যাবে সে অচীন রাজ্যে হারায়ে

আমিও নাছোড়বান্দা বন্দী করে নিলেম

হাঠাৎ আলতো করে ছুঁয়ে দিলেম তাকে

শিউরে উঠলাম সেও শিউরে উঠলো

যবে স্মরণ বীণার জাদুময়ী ঝংকার

অকস্মাৎ তবো মনে প্রাণে জাগে

হারানো দিনের ঝরাপাতায় পুরানো স্মৃতি

যখন তখন কতোই না মধুর লাগে

এটাকেই বলে প্রেম এটাই ভালোবাসা

কে দিবে আমায়- একরাশ প্রকৃতির পরশ।

বিদ্র : শিউলি ফুলের কাব্যকথন ১৮/১৯ অক্টোবর ২০১৯ ইং ঢাকা জেলা উত্তর।