মেষী ও মেষ

– মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু

মায়াবী মেষ শীতকালীন আবেশ

– প্রথম রাশিচক্রের মেষ নও

নিরীহ ভেড়ের কথা বলবো

অবহেলিত ভেড়ীর কথা শোনাবো।

যাকে দেখে অজান্তেই ভাব আসে

হৃদয় জুড়ে থাকে মমতার বন্ধন।

আমারও ছিলো মেড়া ও মেড়ী

মেষীটি দেখতে দারুণ সুন্দর

নাদুসনুদুস- নহে তুমি মেরা

– নির্বোধ প্রাণীর অপর নাম ভেড়া।

কল্পরাজ্যের আমিও মেষপালক

লোকে যাকে বলে রাখাল বালক।

মেরীর সন্ধান করি যদি পেয়ে যাই,

যখন তারা ডাকাডাকি করে

নবজাত অবুঝ শিশুর মতোই

কান্নার আওয়াজ শোনা যায়

তখন ঘরে থাকা ভীষণ দায়।

বাচ্চাদের কান্না শুনতে পারি না

আমি ওদের বড্ড ভালোবাসি

ভালোবাসি ঐন্দ্রজালিক চাহনি।

ওরাও আমায় অনেক ভালোবাসে,

আমি মানুষের গন্ধ অনুভব করি

বেহেশতী ফুল নিস্পাপ শিশুর পরশ

তোমায় আমায় করেছে সরস।

তোমাকে ওই জান্নাতের বনে –

অনুভবে দেখতে পেয়েছি

একটি রাজ্যের অষ্ট প্রদেশে

তুমি অতুলনীয় স্বর্গীয় সুভাষ

দেয় শান্তিময় কাব্যের আভাস।

রুপকথার সাহিত্যের ভান্ডার

ভীনদেশী প্রাণী দেবতার আদর,

অচেনা গ্রহের প্রাচীন প্রাণী

কি ভাবে এলে এ ধরায় ?

এখন আছো মোর পাড়ায়।

তুমি মরুভূমি পাহাড় পর্বত

– সেই ঝড় বৃষ্টি তুষারপাত

– করতে পারে না কুপকাত।

তোর কথা পবিত্র কিতাবে পাই

এ যে যুগ্ম-খুর-যুক্ত চতুষ্পদী

তোকে নিয়ে একটি চতুষ্পদ

কবিতা লেখার প্রবল স্বাদ জাগে।

রোমন্থক স্তন্যপায়ী প্রাণীর রোমন্থন

প্রাচীন ধর্মকর্মে গুরুত্বপূর্ণ সহাবস্থান

বুকে’তে স্থান দিয়ে কেন করলে প্রস্থান?

বিরহবেদনায় চাতকীর মতোই কাতর।

মোফলন তু ভেড়ার আদিম পূর্বপুরুষ,

সেই সুপ্রাচীন মেসোপটেমিয়ায়

ইরানী মূর্তি দেখে মনে পড়ে যায়।

এগারো হাজার বছর আগকথা

প্রথম গৃহপালিত উরিয়াল আরগালি।

তোর পশম-লোম দিয়ে শীত নিবারন

– ইতিহাসের অভিস এরাইস মোফলন।

তাদের অকল্পনীয় সম্পর্ক প্রদর্শন দূত

পরম বিধাতার সৃষ্টি বড়ই অদ্ভুত।

তুমি ব্যাবিলন সুমেরীয় পারস্য পেরিয়ে

বাংলায় বেঁধেছো ঘর পেয়েছো একটি বর।

ছিলে ইসরাঈল রাজত্বের অহংকার

– রাজা বাদশাদের করের হাতিয়ার।

হিব্রুভাষী বাইবেলেও তুমি আছো

বেদ তাওরাত ইঞ্জিল যবুরেও হাসো।

নিত্য তোমার দর্শনে আমি মুগ্ধ,

ওহে সুনয়না মেরীর মেষী ও মেষ

তোমায় লাগছে দারুণ বেশ।

বিদ্র : “ভেড়া ভেড়ীর কথন” রচনাকাল ২১ অক্টোবর সোমবার ২০১৯ ইং ঢাকা জেলা উত্তর।