ব্র্যাক এর আয়োজনে আর্ন্তজাতিক অভিবাসী দিবস ২০১৮ উদযাপন

বিশেষ প্রতিনিধি: মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু

২০০০ সালের ২ নভেম্বর জাতিসংঘের ৫৫তম অধিবেশনে ১৮ ডিসেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ হিসেবে পালন করার জন্য মেক্সিকোর উত্থাপিত প্রস্তাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৫টি দেশ সমর্থন করে। ফলে জাতিসংঘ কর্তৃক ১৮ ডিসেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
অভিবাসীরা এদেশের গর্বিত সন্তান। বর্তমানে প্রায় এক কোটি পনের লক্ষ বাংলাদেশি শ্রমঅভিবাসী হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। অভিবাসী কর্মীগণ তাঁদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মূদ্রা প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখছেন। একইসাথে পরিবার পরিজনের জীবন-জীবিকা নির্বাহ এবং তাঁদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। একটি সূখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে তাঁরাও গর্বিত অংশীদার। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল অভিবাসীকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রদান এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভিবাসীকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতির সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদানের উদ্দেশ্যে দিবসটি পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও ১৮ ডিসেম্বর  দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়:

“ অভিবাসীর অধিকার
মর্যাদা ও ন্যায় বিচার”
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে সহায়তা প্রদানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সাথে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে আসছে। প্রতিবারের মতো সরকার এ বছরও জাতীয় পর্যায়সহ ৬৪টি জেলায় আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যেখানে ব্র্যাকও সম্পৃক্ত থেকে গুরুত্বের সাথে দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঢাকা সেন্টার এর অধীনে দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই ও সিংগাইর উপজেলা পর্যায়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, কেরাণীগঞ্জ টিটিসি এবং ব্র্যাক কেরাণীগঞ্জ টিটিসিতে র‌্যালী, আলোচনা সভা, বিদেশগামী এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা, চেয়ার সিটিং, বেলুন ফোটানো, গান ও আবৃতি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট এর মাধ্যমে দিন ব্যাপি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং ৪৮ জন প্রিডিসিশন ওরিয়েন্টেশন প্রাপ্ত বিদেশগামীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরন করা হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতি প্রকৌশলী আসিফ আজিজ, অধ্যক্ষ কেরাণীগঞ্জ টিটিসি তিনি বলেন- যারা বিদেশ যেতে চায় তাদের অবশ্যই দক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়া প্রয়োজন। দক্ষ হয়ে বিদেশ গেলে বিদেশ যাওয়ার খরচ কম হয় এবং বিদেশে গিয়ে বেশী টাকা উপার্জন করা যায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ আনোয়ার হোসেন, আরএসসি ম্যানেজার ঢাকা। দিন ব্যাপি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন উপজেলা প্রশাসন, টিটিসির শিক্ষক/শিক্ষিকা, ছাত্র/ছাত্র, ব্র্যাক কর্মী, প্যারা কাউন্সেলর, মাইগ্রেশন ফোরাম সদস্য, বিদেশ ফেরত অভিবাসী, সম্ভাব্য বিদেশগামী, এনজিও প্রতিনিধি, সুশিল সমাজের প্রতিনিধি, এলাকাবাসীসহ প্রমুখ।