সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে, পবিত্র আল-কোরআনের বাংলায় অনুবাদে কবিতা।

” কিয়ামত “

– মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু

করি আমি শপথের –
কেয়ামত দিবসের।

আরো ওয়াদা করি ঐ মনকে-
যে ধিক্কার দেয় নিজেকে।

মানুষ মনে করে আমি কি –
অস্থিসমূহ একত্রিত করব নাকি?

পরন্ত আমি তার অঙ্গুলি সমূহ পর্যন্ত –
ঠিক ভাবে সন্নিবেশিত করতে সক্ষমন্ত।

বরং মানব তার ভবিষ্যৎ যাতনায় –
জীবনেও ধৃষ্টতা করতে চায়।

সে কি প্রশ্ন করে ভবে –
মহাপ্রলয় দিবস কবে ?

যখন তোমাদের দৃষ্টি –
চমকে যাবে (সৃষ্টি)।

ওই সেই (সচল) চন্দ্র –
জ্যোতিহীন হয়ে যাবে (অন্ধ)।

সূর্য ও চাঁদকে যবে –
একত্রিত করা হবে।

সে দিন মানুষ বলবে সেথায় –
পলায়নের জায়গা কোথায় ?

না কোথাও নাই –
আশ্রয়স্থল ঠাঁই।

শুধুই যে অভয়াশ্রম হবে সে দিন –
পালনকর্তার কাছে রইবে যেদিন।

সেদিন অবহিত করা হবে মানুষকে,
যা সে সামনে প্রেরণ করেছে-
আর পশ্চাতে ছেড়ে দিয়েছে।

বরং মানুষ নিজেই করবে অনুমান –
আপনা সম্পর্কে হবে চক্ষুমান।

যদিওবা সে তার অজুহাত –
পেশ করতে চাইবে- (দিবে বা’হাত)।

কিতাব শেখার জন্যে তাড়াতাড়ি নয়-
দ্রুত নহে পবিত্র ওহী আবৃত্তিময়।

আমিই ইহার সংরক্ষণকারীত্ব-
পাঠ প্রসারণ আমারই দ্বায়িত্ব।

অতঃপর আমি তা পাঠ করি যখন –
আপনি সেই অনুসরণ করুন তখন।

বিশদ আসবে এরপর-
বর্ণনার দায়িত্ব আমার- (আমি তৎপর)।

তোরা কখনো নয় বরং (ধন) –
ভালোবাসো পার্থিব জীবন।

তোরা উপেক্ষা করো ঐ-
সেই পরকাল কই !

সেদিন অনেকে হবে উজ্জ্বল –
তোমাদের ওই মুখমণ্ডল।

তারা তাকিয়ে থাকবে ঐদিকে –
পরম পালনকর্তা যেই দিকে।

সেদিন অনেক চেহারা ভড়কে-
উদাস হয়ে পড়বে (নরকে)।

ধারণা করবে তারা –
কোমড় ভাঙা আচরণে
তাদের কম্ম সাড়া।

হবেই না কখন –
প্রাণ কণ্ঠাগত যখন।

এবং বলা হবে-
কে ঝাড়বে তবে।

ওই সে মনে করেছে –
বিদায়ের ক্ষণ এসে গেছে।

গোছা গোছার সাথে তবে-
জড়িত হয়ে যাবে।

সেদিন আপনার পালনকর্তা রবে-
তাঁর নিকট সকল কিছু নীত হবে।

সে তো বিশ্বাস গড়েনি –
এবং সালাত আদায় করেনি।

উপরন্ত মিথ্যারোপ করেছে-
সদা পৃষ্ঠ প্রদর্শন দেখিয়েছে।

অতঃপর স্বদম্ভ ভরে সে –
পরিবার-পরিজনে ফিরে গেছে।

তোমার শুধুই দুর্ভোগের উপর দুর্ভোগ,

অতঃপর দুর্ভোগ হবে না লাঘব।

মানুষ কি মনে করে রবে –
(তাকে) এমনিই ছেড়ে দেয়া হবে?

সে কি সেই স্খলিত বীর্য ছিল না?

অতঃপর সে ছিল রক্তপিন্ড,
আল্লাহ তাকে বানিয়েছেন –
(মহাসুন্দর) সুবিন্যস্ত করেছেন।

অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করেছেন –
যুগল নর ও নারী বানিয়েছেন।

তবুও কি সেই আল্লাহ (অদ্বিতীয়জন)-
মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম নন?

বিদ্র : পবিত্র আল কোরআনে সম্ভাব্য কাব্যিক বাংলায় অনুবাদে ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী ও সংশোধন যোগ্য। মক্কায় অবতীর্ণ ৭৫ নং সূরা আল ক্বেয়ামাহ (কেয়ামত) যার ৪০ আয়াত সংখ্যা।