স্বামী নিখোঁজ, অপেক্ষায় দুই মেয়ে ও স্ত্রী শরিফা

বাংলা পেপার ডেষ্কঃ

মাহমুদ হাসান সরকার টাঙ্গাইল জেলার গড়াই থানার কমপিষ্ট টেক্সটাইল মিলে তার কর্মস্থান। মাহমুদ হাসান কোয়ালিটি কন্ট্রোলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছর ১০ জানুয়ারি বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ, আর বাড়ি ফিরে আসেননি।





ফিরে আসার অপেক্ষায় তার স্ত্রী শরিফা আক্তার ও তার ২ দুই মেয়ে। দীর্ঘ দিন পার হওয়ার পরও ফিরে আসছেন না তিনি। শুধু অপেক্ষাই নয়, স্বামীর খোঁজে ঘুরচ্ছেন নানা জায়গায়।

গতকাল বুধবার বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনও করেন শরিফা আক্তার। স্বামীকে ফিরে পেতে সাংবাদিকসহ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও সর্ব মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

দিনদুয়েক অপেক্ষার পর স্বামীকে খুঁজতে নেমে পড়েন গৃহবধু শরিফা। কর্মস্থলসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে খোঁজ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শরিফা অভিযোগ করে জানান, স্বামীর ছবি নিয়ে কমপিষ্ট টেক্সটাইলে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দারোয়ান ছবি দেখে জানান মাহমুদ সেখানে আর কাজ করেন না। মিলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলতে চান শরিফা। কিন্তু তাকে সে পর্যন্ত যেতে দেওয়া হয়নি।

একটানা নয়দিন বিভিন্ন জায়গায় স্বামীকে খোঁজ করে না পাওয়ার পর ১৯ জানুয়ারি শরিফা আক্তার বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা করেনি। স্বামী না থাকায় পরিবারের খরচ চালাতে পারছেন না। তাই তিনি বর্তমানে দুই মেয়েকে নিয়ে বগুড়া সদরে নিশিন্দারা ইউপির চাঁদপুর (কুমার গাড়ীপাড়া) গ্রামে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছেন।

তিনি জানান, প্রতিদিনই মেয়ে দুটো বাবার জন্য কান্না করছে। তাদের কান্না চেপে রাখার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। অসহায় এ অবস্থায় কি করবেন বুঝতে পারছেন না।

নিখোঁজ মাহমুদ হাসান সরকারের বাবার নাম আব্দুস সামাদ সরকার। তারা গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার রহলা গ্রামের বাসিন্দা।

সেখানে এখন শুধু শরিফার শ্বাশুড়ি মাহফুজা বেগম ছাড়া আর কেউ বসবাস করছেন না। স্বামীকে ফিরে পেতে প্রসাশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা চান মাহমুদ হাসানে স্ত্রী শরিফা।