নদী দখল ও জল দূষণঃ হুমকির মুখে বাংলাদেশ (পর্ব-৫)

লেখক ও কবি, মুহাম্মদ শামসুল হক বাবুঃ

নদী দখল ও জল দূষণঃ হুমকির মুখে বাংলাদেশ। কিভাবে বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলো এবং আমরা কোন কোন উৎস থেকে জল পেয়ে থাকি একটু জেনে নেই, যেমনঃ-

বাংলাদেশ থেকে উত্তর-পশ্চিমের ভারতের jigme khesar strict nature reserve এর dorokha থেকে নাগরাকাটা, মালবাজার, গরুবাথান, কালিমপং, পানখাবাড়ি ও শিলিগুড়ি থেকে লাটাগুড়ি ও জলপাইগুড়ি হয়ে যে তিস্তা নদীটি বাংলাদেশের মেখিলীগঞ্জ ও পশ্চিম ছাতনাই দিয়ে আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে।

বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের রাঙামাটি ও জলঢাকা হয়ে সিংগীমারী নদীটি ভারতের মাথাভাঙ্গা, টাকিমারী, কামতাপুর ও ভোরাম হয়ে ঘোষপাড়াখালী ও কানাড়া ব্যাংক হয়ে বাংলাদেশের মোঘলহাট দিয়ে আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে নাম ধারণ করে ধল্লা নদীটি কুড়িগ্রাম হয়ে বাংলাদেশের ব্রম্মপুত্রের সাথে মিশেছে।

বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের তোষরা নদীটি মূলতঃ samtes chukha এর স্রোতধারা থেকে সিল তোষরা নদীটি কোচবিহার, চিলাখানা, দেওচড়াই ও সতরাসালের নিকটবর্তী দিয়ে বাংলাদেশের ভুরুঙ্গামারী হয়ে প্রবেশ করে নাম হয়েছে দুধকুমার নদী, এটিও ব্রম্মপুত্রের সাথে মিশেছে।

বাংলাদেশের উত্তরে আসামের গদাধর নদীটি ভারতের তামারহাট, আগমনী ও গোলোকগঞ্জ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, এটিও পাটামারি হয়ে ব্রম্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়েছে।

বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের মূল ব্রহ্মপুত্র নদীটি ধুবড়ি, পাটাকাটা ও হতসিংগীমারী হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কুড়িগ্রাম, উলিপুর, চিলমারী ও মানকাচর দিয়ে।

আরেকটি ক্ষুদ্র অংশ ভারতের নেত্রী ও বাঘমারা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নাম হয়েছে সোমেশ্বরী নদী, এটি বাংলাদেশের দুর্গাপুর দিয়ে প্রবেশ করেছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের রানীকোর দিয়ে প্রবেশ করেছে যাহার নাম পোদ রানীকোর নদী বা রাকটি নদী। এটি বাংলাদেশের তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ দিয়ে ঢুকেছে।

আবার বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের মেঘলায়ের মাইলাম , বালাট, খাকোরকরা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে, যার নাম wah umngi নদীটি সুনামগঞ্জ নদীর সাথে মিশেছে।

কয়েকটি ক্ষুদ্র শাখা নদী বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের লালপানি ও মোনাতলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে হজরত শারফিনিয়া দিয়ে।

এটা এশিয়া নামে পরিচিত এবং এটিও সিলেটের কান্দার হাওড় ও বাইরামপুর দিয়ে সুরমা নদীতে মাটি ভেদ করে তলা দিয়ে মিশেছে যদিওবা তাহার গতিবেগে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে প্রাকৃতিক ভাবে।

আরেকটি বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের টেলসোরা, খারপরাহ ও খাইকুনা হয়ে এশিয়া নাম ধারণ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে যা লিয়াকতগঞ্জ বাজার দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এটিও সুরমা নদীর সাথে মিশেছে।

আবার বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের mawphlag dam river টি যাহা মেঘালয়ে অবস্থিত, সেটি wah umiam নদীর নাম ধারণ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে জাদুকাটা নদী হয়েছে, এটি জৈন্তাপুর ছাতক হয়ে সুরমা নদীতে পড়েছে।

বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের ইস্ট খাসি হিলস নদীটি ভারতের সোহবার এডভেঞ্চার ক্যাম্প হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, বাংলাদেশে এটি নামধারণ করেছে ইসলামপুর নদী বলে।

বাংলাদেশের ধোলাই ব্রীজ ও ইসলামগঞ্জ বাজার ও কোম্পানীগঞ্জ হয়ে তেলীখাল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং এটি piyain gang নদীর সাথে মিলে সুরমা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।

অতঃপর বাংলাদেশের উত্তরে অবস্থিত ভারতের মার্বেল ক্যাম্প হয়ে Wah Umngot নদীটি জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যাহার নাম গোয়াইন নদী এর baurbhag haor এর মোহনা হয়ে এটি আবার শারি গোয়াইন নদী হয়ে সুরমা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।

দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের উত্তর পূর্বে অবস্থিত ভারতের হাঙগী ব্রিজ হয়ে হাঙগী নদীটি মেঘলায় দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে লুবাছড়া নদীটি মুলাগুল বাজার দিয়ে পরবর্তীতে সুরমা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।

আরেকটি ধারা, বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব ভারতের আসামের বারাক নদীটি রাজারটিল্লা ভারত হয়ে বাংলাদেশের বারাগাতা দিয়ে খুশিয়ারা নদীর নাম ধারণ করে খাড়াভরা দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে, আবার এটি ফাজিলপুর দিয়ে একদিকে মানু নদীতে গমন, অন্যদিকে খুশিয়ারা নদীটি আবার সিলেটের কালনী নদীর নাম বরণ করে বিভিন্ন সর্পিল আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে ঢাকা জেলার কিশোরগঞ্জের সাথে মিলিত হয়ে এবং অস্ট্র্গ্রাম দিয়ে অস্ট্রোনদী কবির খান্দান গুদারা ঘাট দিয়ে ও ইকরদিয়া খেয়াঘাট ও খাসাল দিয়ে একদিকে কলমায় প্রবেশ করলো, অন্যদিকে ছাড়প্রতাপেও প্রবেশ করে যাহা অস্ট্রোগ্রাম।

অরুয়াইল, দুবাজাইল ও মানিকদী দিয়ে মেঘনা নদীর মোহনায় গমন। মেঘনা আবার পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে নাসিরারকান্দি দিয়ে।

এছাড়াও বাংলাদেশের ভিতর উৎপন্ন বাংলাদেশের পূর্বে অবস্থিত পার্বত্য চট্ট্রগ্রামের বান্দরবান দিয়ে প্রবাহিত ও পাহাড়ি ঝর্ণাধারা থেকে সৃষ্ট সাঙ্গু নদী তো আছেই।

দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন নাফ নদীটি বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে করেছে পৃথক। দক্ষিণের বঙ্গোপসাগরের হাতিয়া, শাহবাজপুর, গলাচিপা, তেঁতুলিয়া, আন্দারমানিক, পায়রা, বিষখালী, বালাশ্বর, শরণখোলা, কোটকাখাল, বেতমোরী গাং, সেলা নদী, সুন্দরবন টিয়ারচর, চান্দপাই ও দুবলারচর সহ আরো অনেক নদীর পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং ভারত মহাসাগর ও পশ্চিমের সুন্দরবন ও কোলকাতা থেকে আগত যমুনা নদীটি ইতিহাসের স্বাক্ষী।

অন্যদিকে ভারতের পশ্চিমের ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে গাংগিস নদীটি নিমতিতা ও সুতি দিয়ে বাংলাদেশের তারাপুর ও হাসানপুর দিয়ে যাহার অবস্থান রাজশাহী, প্রবেশ করে নাম ধারণ করে পদ্মা নদী।

ঐদিকে ভারত ও বাংলাদেশের মহানন্দা নদী তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধা দিয়ে বাংলাদেশের সীমানা ঘেঁষে বহমান।

আসলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের চারিদিক দিয়ে শিরাউপশিরার ন্যায় বিভিন্ন নদীগুলো আমাদের ভূমিকে করেছে উর্বর থেকে আরো উর্বর কিন্তু বিভিন্ন সময় নদীর গতিবেগের পরিবর্তন ও মোহনার পরিবর্তন সহ নানান বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে নদী তার সরূপ হারিয়ে ফেলেছে।

মানুষ নামের অমানুষের দানবীয় শক্তির কাছে নদী কি চিরদিনই অবহেলিত থাকবে ? আবার পানির অপর নাম জীবন কিন্তু সেই জীবন আজ মৃতপ্রায়।

যার কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে বিলীন হওয়ার পথে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে নদী দখল ও জল দূষণ : হুমকির মুখে বাংলাদেশ।

দেখার কেউ নেই। Just keep on waiting, wait, only waiting, dream and dream, One day the government will be take necessary action ! But….?

 

Continue Reading

নদী দখল ও জল দূষণঃ হুমকির মুখে বাংলাদেশ (পর্ব-৪)