নদী দখল ও জল দূষণঃ হুমকির মুখে বাংলাদেশ (পর্ব-৩)

লেখক ও কবি: মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু –

তবে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নদীগুলোর বর্তমান চিত্রটা তুলে ধরলেন তার নাব্যতার হিসেব কষে। তিনি জানালেন, স্বাধীনতার পর বিআইডাব্লিউটিএ’র তরফে যে জরিপ হয়েছিল তাতে জানা যায় যে, বাংলাদেশে নদীপথের মোট দৈর্ঘ্য ২৪,০০০ কিলোমিটার। “কিন্তু এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৮,০০০ কিলোমিটার,” তিনি বলেন, “এ থেকেই বুঝতে পারেন নদীগুলোর অবস্থা আসলে কেমন।” অর্থাৎ প্রায় চার দশকে ১৬,০০০ কিলোমিটার নদীপথ শুকিয়ে গিয়েছে বা দখল হয়েছে। কিন্তু যেখানে নদনদীর সংখ্যা নিয়েই কেউ একমত হতে পারছে না, সেখানে গত ৫০ কিংবা ১০০ বছরে বাংলাদেশে ক’টি নদীর মৃত্যু ঘটেছে ? এ সম্পর্কে পাকা খবর কারো কাছেই নেই। বাংলাদেশে গত প্রায় চার দশকে ৫০ থেকে ৮০টা নদী, শাখা নদী এবং উপনদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহের পুরনো ব্রহ্মপুত্র, নেত্রকোনার মগড়া, কংশ ও সোমেশ্বরী, যশোরের ভৈরব, কপোতাক্ষ, ইছামতী, বেতনা, মুক্তেশ্বরী; কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা, ঘোড়াউত্রা, ফুলেশ্বরী; খুলনার রূপসা, শিবসা, ডাকি, আত্রাই-এর মতো নদীগুলো এখন মৃত্যুর দিন গুনছে। একই চিত্র ফরিদপুরের কুমার, বগুড়ার করতোয়া, কুমিল্লার গোমতী, পিরোজপুরের বলেশ্বর, রাজবাড়ীর গড়াই, কুড়িগ্রামের ধরলা, গাইবান্ধার ঘাঘট, বান্দরবানের সাঙ্গু, খাগড়াছড়ির চেঙ্গী, নওগাঁর আত্রাই, জামালপুরের ঝিনাই নদীর। নদীর মৃত্যুর পেছনে কিছু স্বাভাবিক প্রাকৃতিক কারণ থাকে। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধ, তিস্তা ব্যারেজের মতো মানুষের তৈরি বাধার কারণেও মরে যাচ্ছে নদী। অন্যদিকে, দেশের সীমানার মধ্যেই নদীকে সহায়হীন মনে করে চলছে দখল উৎসব। নদীর তলদেশের ভূমি খাস জমি। এই জমি উদ্ধার করা কঠিন নয়। দেশের প্রতিটি থানায় কোথায় কোন নদী অবৈধ দখলের শিকার হয়েছে সে সম্পর্কে সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে প্রকৃতপক্ষে উদ্ধার করা সম্ভব। মানুষ তার লোভ কিংবা মুনাফার টানে নদীর শুধু গতিপথই বদলে দিচ্ছে না, আঘাত করছে নদীগুলোর প্রাণবৈচিত্রেও। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বংশী, বালু, লৌহজঙ্গ কিংবা শীতলক্ষ্যার মতো নদীগুলোর দু’ধারে যে শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে, তার অপরিশোধিত বর্জ্য গিয়ে পড়ছে এসব নদীতে। ফলে বিষক্রিয়ায় মরে যাচ্ছে নদীর প্রাণ। “শীতলক্ষ্যা অলরেডি মারা গিয়েছে। আপনারা শীতলক্ষ্যার পাড়ে গেলে দেখবেন পানি থেকে অসম্ভব দুর্গন্ধ বের হয়। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ এখন নূন্যতম মাত্রার চেয়েও কম।”

গত ৫০ বছরে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় রাস্তাঘাটের মতো অবকাঠামো নির্মাণের মতো বিষয়গুলোকে যতখানি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সে তুলনায় নদনদীর উন্নয়নের দিকে নজর দেয়া হয়েছে কম। রাস্তাঘাট নির্মাণ করাটা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে নদী খননের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয়। কারণ রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণ করলে তা খালি চোখে দেখা যায়।
কিন্তু নদী খনন করলে তা খালি চোখে দেখা যায় না । জনগণের বাহবাও পাওয়া যায় না। নদী-রক্ষার প্রশ্নে এই মুহূর্তে পদক্ষেপ নেয়া শুরু না হলে, এক সময় মানচিত্র থেকে মুছে যাবে বহু নদীর নাম। এভাবে যদি চলে তাহলে- নদীমাতৃক বাংলাদেশের উত্তর প্রজন্মকে নদী সম্পর্কে জানতে হবে যাদুঘর থেকে। বাংলাদেশের নদী গবেষকেরা বলছেন, দেশটির শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত অন্তত ২৮টি নদ-নদী দখল আর দূষণের শিকার হয়ে এখন মৃতপ্রায়। বিশ্ব নদী দিবস এলেই আমরা সরব হই কিন্তু সাঁড়াশি অভিযান প্রয়োজন। রাজধানী ঢাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা নদীর ব্যাপারে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, আগামী দু’তিন বছরের মধ্যে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচিয়ে তোলা হবে।

ধলেশ্বরী নদী থেকে বের হয়ে টাঙ্গাইল শহর এবং এর বিভিন্ন উপজেলার ওপর দিয়ে ঢাকার কাছে বালু নদীতে এসে পতিত হওয়া লৌহজং নদী এক সময় ছিল দারুণ প্রমত্তা। লেখকদের লেখনীতে পাওয়া যায়, এই নদীতে বড় বড় জাহাজডুবির ঘটনা। এখনো এর উপর থাকা পুরনো সেতুগুলো দেখলে বোঝা যাবে, সেগুলোকে উঁচু করে তৈরি করা হয়েছিল তলা দিয়ে সহজে জাহাজ চলাচলের সুবিধার্থে। কিন্তু বহু বছর এই নদীতে জাহাজ চলে না, দু’পাড় দখল হতে হতে নদীর ধারা হয়ে পড়েছে সরু। আশপাশে গড়ে ওঠা শিল্প কারখানার বর্জ্য দুষিত করে তুলেছে নদীর পানি। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি, নদীর অনেক গভীরতা ছিল। এখন আর তেমনটি নেই। কচুরিপানায় ভরে গেছে। পানির রং বদলে গেছে। মাছ থাকার কোন পরিবেশ সেখানে নেই।” নদীর দু’পাশে দখল করে ঘরবাড়ি বানিয়েছে মানুষ নামের অমানুষরা, তাদের পয়ঃনিষ্কাশন হচ্ছে নদীর পানিতে। কারখানার বর্জ্যও সেখানে পড়ছে, লৌহজং নদীর আজকের যে পরিণতি সেই একই পরিণতি ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু প্রভৃতি নদ-নদীগুলোতে।

বাংলাদেশের শহর-কেন্দ্রিক যেসব নদনদী রয়েছে, তার মধ্যে ২৮টিরই একই পরিণতি হয়েছে কিংবা হবার পথে রয়েছে। বরিশালের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কীর্তনখোলা নদীটি এখনো ভাল থাকবার কারণ, “শহরটিতে শিল্পায়ন কম, নদীতে পানিপ্রবাহও বেশী”। “যে নদীতে প্রবাহ বেশী থাকে সেখান থেকে দখলদাররা দূরে থাকে,” কিন্তু দখল ও দূষণের শিকার ২৮টি নদনদীকে বাঁচাতে সরকার কি করছে ? পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বলেছিলেন, তারা ঢাকার কাছে বুড়িগঙ্গাকে পুনরুদ্ধার করার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছেন। দূষণ থামাতে ঢাকার ট্যানারি সরানোর উদ্যোগ নিয়ে আরেকটি নদীকে ধ্বংস করা হচ্ছে, ওয়াসা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে বসানো হচ্ছে ‘এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ বা ইটিপি। এগুলো হয়ে গেলেই পুংলি নদী থেকে পানি এনে বুড়িগঙ্গার পানিকে পুন-স্থাপন করা হবে কিন্তু তাহার ব্যাপারে এখন আছে নানান সন্দেহ।

অন্যান্য নদ-নদীগুলোকে পর্যায়ক্রমে দখল ও দূষণমুক্ত করা হবে বলে জানা যায়, তিনি বলেন, “দখলদার রাজনৈতিকভাবে যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আমাদের সরকারের কাছে কোনভাবেই পার পাবে না।” এদিকে বুড়িগঙ্গা নদীর সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে পুংলি নদী থেকে পানি আনাটা হবে ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পকে নৈতিক বৈধতা দেবার শামিল। অথচ বাংলাদেশের সরকার ভারতের এই উদ্যোগের ঘোর বিরোধী। ভারত যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার দেশের নদ-নদীগুলো থেকে পানি দেশটির খরা-পীড়িত অঞ্চলের দিকে সরিয়ে নিয়ে যায়, তার প্রভাবে বাংলাদেশের নদনদীগুলো জলশূন্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর দক্ষিণ-পূর্ব পশ্চিমে দখল হয়নি এমন কোন নদী নেই, সবখানে সমানতালে চলছে দখলের মহোৎসব। দখল প্রক্রিয়া থামানোর জন্য মাঝেমধ্যে সরকারী পদক্ষেপ নেয়া হয় ঠিকই। কিন্তু তার মেয়াদ খুবই কম। বাকি সময় চলে দখলের প্রতিযোগিতা। সাধারণ লোক নয়, দখলদারদের সবাই প্রভাবশালী। স্রোতহীন নদীতে খুব সহজেই পাটা ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, শুকিয়ে যাওয়া নদের পাড়ে মাটি ভরাট করে দখলে নিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তির মতো গাছপালা লাগানো ও চাষাবাদসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা, এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ী-ঘর নির্মাণের দৃশ্য দেখা যাবে না এমন কোন নদী খুঁজে পাওয়া কঠিন। অনেক নদীর অনেকস্থানে অস্তিত্বও মুছে যাচ্ছে। একে তো শুকিয়ে মরা নদীতে পরিণত হয়েছে, তার উপর সামগ্রিক স্বার্থের কথা বিবেচনায় না নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। নদপাড়ে একটু দৃষ্টি দিলে খুব সহজেই পরিস্কার হওয়া যাবে কিভাবে কতটা দখল হয়েছে। অথচ কারোই যেন কোন মাথাব্যাথা নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর ও খুলনার ভৈরব নদ, মুক্তেশ্বরী, কপোতাক্ষ, মাগুরা ও ঝিনাইদহের নবগঙ্গা, কালীগঞ্জের চিত্রা, নড়াইলের মধুমতি ও চিত্রা, শৈলকুপার কুমার, কুষ্টিয়ার গড়াই ও চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা-সহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এমন কোন নদী নেই, যার কোথাও না কোথাও দখল হয়নি। নড়পাড়ের এমনিতেই তো পদ্মার শাখা প্রশাখা নদ-নদীর অবস্থা শোচনীয়। যতটুকু শ্বাস-প্রশ্বাস আছে, তাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দখলের কারণে।

ঐদিকে নদীর বুকের পাথর সরানোর ন্যুনতম কার্যকর কোন উদ্যোগ নাই। নদীর পানি প্রবাহ কমে পলি জমে ভরাট হওয়ার পাশাপাশি দখলের প্রতিযোগিতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, একযোগে দখলমুক্ত করে নদী বাঁচানোর কোন বিকল্প নেই। নদপাড়ের লোকজনের বক্তব্য, বারবার দখলমুক্ত করার চেষ্টা চলে, কিন্তু নদী দখল বন্ধ হয় না। বরং দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। যখন যেখানে যে যেমন পারছে নদপাড় এমনকি নদের বুকেও দখল নিচ্ছে। আসলেই কোথাও নদ-নদী তার আপন গতিতে চলতে পারছে না। নদীতে স্রোত না থাকায় কচুরীপনা ও ময়লা জমে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে। নদ-নদীর প্রাণশক্তি ক্রমাগতভাবে কমে যাওয়ায় পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটছে।

পানি উন্নযন বোর্ড, সংশ্লি­ষ্ট সরকারী প্রতিষ্ঠান ও নদী নিয়ে কাজ করা বেসরকারী সংগঠন কারো দপ্তরেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীতে কতটুকু সরকারী জমি দখল হয়েছে, কতসংখ্যক পাটা ও বাঁধ আছে কিংবা কত মাইল দখল করে কোথায় কারা কিভাবে চাষাবাদ কিংবা বাড়ীঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে তার কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন সুত্রের আনুমানিক হিসাবে পাটা ও বাঁধ আছে অন্তত ৫ হাজারের উপর। আর দখল হয়েছে লক্ষাধিক একর নদীর জমি। এই অঞ্চলের ৪ শতাধিক কিলোমিটার নদপথের প্রায় তিন শ’ কিলোমিটার শুকিয়ে গেছে। নদীতে পাটা ও বাঁধ দেয়া এবং দখলের কারণে কপোতাক্ষ-সহ নদ-নদীর অবস্থা করুণ। যশোর শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ভৈরব নদটি মৃত্যুর মুখে। ভৈরব নদটি গঙ্গা থেকে বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার ভেতর দিয়ে সীমান্ত জেলা মেহেরপুরে ঢুকেছে। মেহেরপুরের সুবলপুর পয়েন্টে মিশেছে মাথাভাঙ্গা নদীর সাথে। ভৈরব আর মাথাভাঙ্গা অভিন্ন ধারায় দর্শনা রেলস্টেশন এলাকা পর্যন্ত প্রবাহিত কিন্তু ১৮৬১ সালে শিয়ালদহ-কুষ্টিয়া রেলপথ স্থাপনের সময় ভৈরব নদ ভরাট করে মাথাভাঙ্গা নদীকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ওই পয়েন্ট থেকে দর্শনা ও জীবন-নগর হয়ে ভৈরব নদ এসে মিশেছে চৌগাছার তাহেরপুরে কপোতাক্ষের সাথে। সেখান থেকে ভৈরব নদ যশোর ও শিল্পশহর নওয়াপাড়া হয়ে শিল্পনগরী খুলনা ছুঁয়ে সুন্দরবনের পশুর নদীতে গিয়ে মিশেছে। ভৈরব নদকে ঘিরেই মূলত যশোর, নওয়াপাড়া ও খুলনায় নগর, শহর ও শিল্প গড়ে ওঠে। ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হয়। ভৈরব নদে এক সময় বড় বড় জাহাজ ভিড়তো। এখন ভৈরবে নদীপথ নেই বললেই চলে। এ অঞ্চলের মধ্যে মরা ভৈরবের দখল সবচেয়ে বেশী। নদপাড়ের মানুষ বহুদিন থেকেই দখলমুক্ত করণের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন পুরণ হয় না কখনো। গতানুগতিক ধারায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়ে থাকে আমরা দখলমুক্ত করার চেষ্টা করতে কার্পণ্য করি না, কিন্তু পারি না। কারন প্রভাবশালীদের চাপ থাকে, দখলদাররা কাগজপত্র ও দলিল তৈরী করে রাখে, এমনকি আদালতে মামলাও ঠুকে দেয়। ভৈরব নদ দখল করে তৈরী হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ী। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন নদ দখলমুক্ত করতে গিযে বরাবরই এক পা এগুলে দুই পা পিছিয়ে আসে। বিশাল বিশাল ইমারত তৈরী হয়েছে প্রশাসনের চোখের সামনেই। শুকিযে যাওয়া নদের বুকে চলছে চাষাবাদও। কাগজপত্র ঘাটলেই দেখা যাবে কারোরই পৈত্রিক সম্পত্তি নয়, অথচ বিশাল বিশাল অট্রালিকা গড়ে তোলা হয়েছে নদীর জমিতে। একইভাবে দখল হয়েছে নবগঙ্গা, কুমার, মুক্তেশ্বরী, কপোতাক্ষ ও চিত্রা-সহ দক্ষিণ-পশ্চিমের নদ-নদী।