ফটিক ব্যাপারীর জীবন ও সংসার

-এনামুল হক টগর

অসহায় ফটিক ব্যাপারীর জীবন যৌবন ও সংসার
কাঁদে ব্যথা যন্ত্রণা আর অভাবে দিশেহারা নিরূপায়।

বর্ষায় ভেঙেছে তাঁর জমি উজার হয়েছে বসতি বাড়ি
কাঁচা মালের ব্যবসা বন্ধ দীর্ঘদিন পেট ক্ষুধায় ক্লান্ত,
গ্রাম্য নেতার ভিলেজ দ্বন্দ্ব ও কৌশলে মিথ্যা হুলিয়া
কাধে নিয়ে পালিয়ে বেড়ায় সে দূর পথে পথে একা।

একদিন যৌবন কামনায় গহীন রাতে বউকে ভালোবাসার আশায়,
আর মিলন বাসনায় সে ফিরে আসে নিজ বাড়ির ঠিকানায়।

কিন্তু এসে দেখে বাড়িটি পরিত্যাক্ত মলিন আর বউটি
নেতার ভিলেজ পলিটিস ও ষড়যন্ত্রে হয়েছে নিখোঁজ!
তারপর মিথ্যা সাক্ষীতে বহু বছর কারাগারে কেটেছে তাঁর জীবন।

বউটি স্বামীকে ছাড়াতে মাঝে মাঝে থানায় যেত একা নিরুপায়!
কখনো নেতার বাড়িতে যেত দুঃখ ক্ষোভ আর অনাহার ব্যথায়,
সুন্দরী রূপসী সে অপরূপ তার দেহ মন আর আখী
প্রতারণার কঠিন ফাঁদে পড়ে সে হয়ে যেত লোভী নেতা
আর অসৎ দারোগার প্রাণশক্তি ও নিত্য খাদ্য ভোজন।

নেতার শক্তি ও ইশারায় প্রতিরাতে পুড়তো তার দেহ
প্রতিবাদ কে করে এ সমাজে কে আছে জেগে অতন্দ্র ন্যায়পরায়ণ সাহসী,
কে আছে প্রতিরোধকারী অধিকার আদায়ের বিজ্ঞ সংগ্রামী।

কঠিন অভাব অনাটনে বউটি ঘুমায় তবুও নেতা ও তার
শিষ্যরা প্রতিরাতে কাম ও লালসার দেয় উঁকি লোভ!
এক সময় ঘর ভাঙে, দেহ ভাঙে, স্বামী কারাগারে বন্দি
এমন নিষ্ঠুর অত্যাচারে বউটি একদিন সমাজ ছেড়ে চলে যায়।

ওই দূর বহুদূর আশ্রয়হীন ঠিকানাহীন অজানার গন্তোব্যে।
কারাগারে ফটিক ব্যাপারী কাঁদে বাস্তবতার যন্ত্রণায়
বেদনায় দিশেহারা মানবতার প্রেম ও ভালোবাস নিরব
তারপরও দেশ সমাজ ও পৃথিবীর আর্দশ আর সভ্যতা ঘুমায় ব্যর্থ নিরব।