ঘরের খুটিতে শিকলে বাঁধা নারী; ২৭ দিন পর উদ্ধার

খোরশেদ আলম,সাভার প্রতিনিধি : নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে স্বামীকে তালাক দেয়। কিন্তু তাতেও রক্ষা পায়নি। তালাক দেয়ার দুইবছর পরও কৌশলে নিয়ে এসে গত ২৬ দিন ধরে পায়ে শিকল বেঁধে আটক রেখেছিলো অসহায় নারী মাহফুজা আক্তার মুন্নিকে। আর এঘটনা জড়িত সাবেক স্বামীসহ আপন ছেলেও। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত্রে সাভার পৌর এলাকার জামসিং মহল্লার সোলায়মান মার্কেটর এলাকার সোলেমানের বাড়ির একটি কক্ষের ভিতর থেকে শিকলবন্দী অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া নারীর নাম মাহফুজা আক্তার মুন্নি (৩৯)। সে পৌর এলাকার জামসিং মহল্লার মজিবর রহমানের মেয়ে। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই জনকে আটক করেছেন। এছাড়াও নির্যাতন করে বেঁধে রাখার ঘটনায় আরও তিনজন পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে গেছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ২৬ দিন আগে দুই সন্তানের জননী মাহফুজা আক্তার মুন্নিকে তার তালাকপ্রাপ্ত স্বামী সোলেমান মিয়া ও ছেলে মিরাজসহ কয়েকজন  মুন্নীকে নিয়ে আসে। পরে তাকে সোলায়মান মার্কেট এলাকার সোলেমানের বাড়ির একটি কক্ষের ভিতর খুটির সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে।

এসময় অপহরন এবং নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই নারীর দেবর আলেক মিয়া (৩৫) ও ওই নারীর ছেলে মিরাজুল ইসলামকে (২৪) আটক করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মাহফুজা আক্তার মুন্নি জানায়, ১৯৯৪ সালে একই এলাকার সোলেমানের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছেলে মিরাজ ও মেয়ে মার্জিয়াকে নিয়ে স্বামীর ঘরে বসবাস করি। এসময় তার স্বামী ঠিকমতো ভরনপোষনা না দেয়ায় সে মাশরুম চাষ করে সংসারের খরচ চালাতো। প্রায় তিন বছর আগে স্বামী সোলেমান তাকে গরম পানি দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেয় এবং আড়াই বছর আগে লোহার সাবল দিয়ে মুন্নির বাম হাত ভেঙ্গে দেয়। এভাবে প্রতিনিয়ত অত্যাচারে গত দুই বছর আগে তালাক দেয় স্বামীকে। পরে বাপের বাড়িতে চলে আসে মাহফুজা আক্তার মুন্নি।

এদিকে কিছুদিন আগে মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলেকে বিয়েকে করার সিদ্ধান্ত নিলে স্বামী সোলেমান ও ছেলে মিরাজসহ পরিবারের লোকজন আমাকে অপহরণ কওে নিয়ে ঘরে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখে। পরে রমিজা নামে তার এক বান্ধবী ওই বাড়িতে গিয়ে মুন্নিকে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীদের জানালে কৌশলে পুলিশ নিয়ে মুন্নিকে উদ্ধার করা হয়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল বলেন, অমানবিকভাবে নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে জানতে পেরে পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতিত নারীকে শিকল বন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা হচ্ছে, স্বামীকে তালাক দিয়ে পুনরায় অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় মুন্নী। সে বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ছেলে ও সাবেক স্বামী। তাই তাকে কৌশলে নিয়ে আটকে রাখে।এঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদেরকে আটকের চেষ্টা চলছে।

এঘটনায় সাভার মডেল থানায় অপহরন ও অন্যায় ভাবে আটকে রাখার দায়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।