কবি ও কবিতা নিয়ে একটি অসাধারণ কবিতা “কালজয়ী কবি কালজয়ী কবিতা”

– মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু

কালজয়ী কবি কালজয়ী কাব্যের
অনুরাগী তোমার অনুরাধা কই ?
দেবে নাকি খানিক বিবৃতি –
কবিতার জ্বালাময়ী আবৃত্তি।

আমি কবিতার পল্লী থেকে বলছি
জমানো বেদনার কথা শোনাব।
অনুরাগ উত্তাপে মনের আস্ফালন
কবিতায় জ্ঞানের অনুশীলন।
অনুশীলন হয় ভাবের ও আত্মার
অনুশীলন আবেগের ও বিবেকের।
নিপিড়ন ও মনুষ্যত্ববোধের কথা বলে –
দেশ জাতি ও জনতার ঝান্ডা তুলে।

ছড়িয়ে আছে বহুমাত্রিক লেখক
বহুমাত্রিক প্রতিভার ভুবন
বটবৃক্ষের মতোই জড়িয়ে
শিকড় থেকে শিকড়ের সন্ধ্যান,
কাব্য গাঁথায় কবিয়াল বাড়ী।
হে বাংলা তুমি কবিদের চারণভূমি,
উর্বর ও স্বনির্ভর আহা কি সুন্দর বেশ
কবিতার দেশ বাংলা ও বাংলাদেশ।

কবিতা এলোমেলো বাতাসের মতোই
ঝড় তুলে শব্দ সমাবেশ ঘটায়,
প্রমিত ভাষাময় কাব্য করে সিক্ত-
রিক্ত হস্তে ধূসর যত অভিলাষ,
উড়ন্ত পাখির ন্যায় ডানা মেলে
অভিলাষী কবিতা স্বাধীন স্বপ্নবুনে।
কবিরা যেমনই কালজয়ী –
তেমনই সত্যজয়ী মহানায়ক।

লড়াই করে বায়ান্নর প্রেরণায়
তরতাজা রক্ত বিন্দুর ফোঁটায় গড়া
একাত্তরের লাল সবুজের চেতনায়
অনাগত কালের গৌরবের সূচনায়,
এই কাল সেই কাল ঐ কাল।

বিহঙ্গের মৃদুমন্দ বাতাসে মৃদু কাকলী
অরুণালোকে জাগ্রত বিবেক
দূর হোক সকল ঘোর অন্ধকার
অমানিশীথের পর নতুন দিগন্ত
আলোকিত সারথি’র আগমন প্রত্যাশায়
নব দিগন্তের স্নিগ্ধ ভোরের খুব প্রয়োজন।

আমি একজন সারথি চেয়েছিলেম,
ধর্মশালার ঐ বিদ্যালয়ে খুঁজেছি
মাঠে ঘাটে ময়দানে খুঁজেছি
রাজনীতিবিদদেরও দেখেছি
বিদ্যানাথের কাছেও চেয়ে ও যেয়ে পাইনি
তাই বসে বসে দিন যায় রাত আসে।

আজি প্রকৃতির শব্দ শুনি
জলের জলকেলি শব্দ শুনি,
মৃত্তিকার ভাষায় কথা বলি
প্রাণীর ভাষায় কথা বলি,
কথা বলি ফুল ও ফলের সাথে।
একটি প্রতিবাদী গ্রাম্য কবি
ছিলো একদা দ্রোহীর দহন
জ্বালাময়ী সেই ভাষণ।
সমকালের বেদনার ক্ষত
আমায় জ্ঞান দান করে
মুক্ত বিহঙ্গের স্বাধীন উত্তরণ।

পাললভূমির মুক্তিকামী জনতা
চর্মের কন্ঠস্বরে রক্তস্রোত বহে
যন্ত্রণাদায়ক ভয়ংকর আত্নচিৎকারে
মাইকের তীব্র আওয়াজ বাঁধা সৃষ্টি করে।
প্রকৃতির উদ্যানে চিরায়ত সুরে
লোকায়ত সভ্যতার বসবাস,
আমি কিইবা লিখতে পারি !
আমি কি’বা করতে পারি।

কাননে সৃষ্টি করে বিশ্ব কবিতা মঞ্চ
প্রকৃতি মত্ত গোপন পৃথির অভিসারে
দৃপ্তকণ্ঠে সজিব সতেজ প্রান্তর।
প্রভাতী সূর্য কিরণে উদ্ভাসিত পথ !
ওই জনমানবহীন মেরু প্রান্তর
জনাকীর্ণ কাছের ও দূরের সরুপ্রান্তর
সাহারা’র মরুভূমির বিজন প্রদেশ।
তোদের জন্যে কিইবা করতে পারি !
একটু কলমের বাহাদুরির গর্জন
আরেকটু আহাজারি আর কিছুই না।

উদাসীন আকাশ বাতাস
ঘরে ঘরে চক্রবর্তী দুষ্ট লোক,
আমি একটি নির্মল সত্য সুন্দর –
আলোকিত নববর্ষ চেয়েছিলেম
স্বপ্রকাশ তুমি প্রকাশিত হয়ে এসো।

সহিতে পারি না প্রবৃত্তির দাসত্ব
বিশ্ব জগতের নিশ্চুপ ঘুম
অধিপতি বিধাতাও নিরব হও সরর
শাসক ও শোষকের দৌরাত্ম্য
দেশকাল ভেদিয়া করে লম্ফঝম্প।
যদি পাখি হতে পারতাম –
তোমাদের ছেড়ে চলে যেতাম।

কোথায় জীবনানন্দ ?
কোথায় সত্যানন্দ ?
কোথায় বিবেকানন্দ কোথায়!
শান্তিনিকেতন তুমি কতো দূর ?
শান্তিনানন্দ কোথায় ?
উত্তমকুমার কোথায় ?
কল্যানানন্দ তোরা এদিকে আয়
তোদের কৃপাময় ছায়া দিয়ে যা।

ঐন্দ্রজালিক রতন করে যতন
মানুষ নামের অমানুষের মানচিত্রে
পুতুলের মতো বসবাস করতে চাই নে।
আমি প্রকৃতির মানচিত্র চাই
কবি ও কবিতার মানচিত্র চাই।
অমর সাহিত্যের জাগরণ চাই,
আমি ঘুমন্ত মানুষকে জাগাতে চাই।

উদ্ভাসিত অগ্নিময় প্রেম দাও
মৃত্যুঞ্জয়ী রাগ অনুরাগের ভাব।
আমায় দেশপ্রেম দাও
দিয়ে যাও মানবপ্রেম
আমি প্রকৃতির প্রেম চাই
চির স্বাধীন সরল প্রেম।

কালজয়ী কবি কালজয়ী কাব্যের
তোর আগুনের পরশমণি চাই –
যদি শান্তি ফিরে পাই,
আমি মনের স্বাধীনতা চাই।
আমি বেশী কিছু চাই নে –
সেই কুড়িগ্রামের ভিতর,
ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে –
একটুকরো স্বাধীনতা হলেই চলবে।

কবি শামসুল হক বাবুর লেখা “কালজয়ী কবি কালজয়ী কবিতা” অপ্রকাশিত গ্রন্থের পান্ডুলিপি’র অংশ বিশেষ রচনাকাল ৬ অক্টোবর রবিবার ২০১৯ ইং ঢাকা।