এক মাস প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইজতেমা মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে তাবলীগ জামায়াতের দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের  জানানস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আগামী এক মাস টঙ্গী বিশ্ব এজতেমা মাঠে বিবাদমান দুই পক্ষের কোনো পক্ষই কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। এ সময় মাঠের নিয়ন্ত্রণ থাকবে প্রশাসনের কাছে। এসময় শনিবার সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ৩০ তারিখে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেজন্য আমরা আগে বলেছিলাম নির্বাচনের আগে কোন ধরনের ইজতেমা হবে না। আমরা সে কথাটাই আবার বলেছি। নির্বাচন পর্যন্ত ইজতেমার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতিসভা কিংবা জোড় ইজতেমা কিংবা ইজতেমা সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ থাকবে সারাদেশব্যাপী। নির্বাচনের পর ইজতেমা অনুষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইজতেমা হবে। শুধু নির্বাচনের কারণে এটা পিছিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জানুয়ারীতে এবারের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই শনিবার টঙ্গীতে পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ও অর্ধ শতাধিক মুসুল্লী আহত য়েছের বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।

নির্বাচনের পর যে কোনো সময়ে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে এর আগে ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে থাকবে। সেখানে কাউকে অ্যালাউ করা হবে না এবং আজকের (শনিবার) ঘটনার বিষয়ে ফৌজদারি মামলা হবে। ফৌজদারি মামলায় যেভাবে তদন্ত হয় সেভাবেই তদন্ত হবে। তদন্তে চিহ্নিত দোষী ব্যক্তিদের আইনানুযায়ী বিচার হবে।

বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আর তাবলীগ জামায়াতের দুই পক্ষের মধ্যে দিল্লি মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভিপন্থী বাংলাদেশ তাবলিগের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম এবং তাদের বিরোধী কওমিপন্থী মাওলানা জুবায়েরের পক্ষ থেকে তাবলিগের উপদেষ্টা মাওলানা আশরাফ আলী ও আবদুল কুদ্দুসসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।